মোবারকগঞ্জ চিনিকলে (মোচিক) লোকসানের ঘানি টানার সমাপ্তি ঘটছে না। বছরের পর বছর এই হয়ে চলেছে। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে মিলটিতে শতকোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এ অর্থ বছরে মিলটি পরিচালনায় খরচ হয়েছে ১৬৭ কোটি ৫৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৭১ কোটি ৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। এ জটিলতা থেকে বেরোনা যাচ্ছে না। এমন খবরটি দৈনিক কল্যাণে প্রকাশিত হয়েছে।
এই লোকসান নিয়ে কর্মকর্তাদের অনেকে অনেক কথা বলছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। যারা যে কথা বলছেন তার পেছনে শক্ত যুক্তি করছেন। শুনলে মনে হবে দিবালোকের মত বাস্তব কথা। কিন্তু ওই পর্যন্তই। কথায় আছে ‘শুধু কথায় চিড়ে ভেজে না’। এর জন্য কৌশল বের করতে হবে। কিন্তু এদিকে মাথা ঘামানোর কেউ নেই। সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কেউ নেই। সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই মিলটি অব্যাহতভাবে লোকসান দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৬৫ সালে মিলটি প্রতিষ্ঠার পর শত শত কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। ব্যর্থতা থেকে জ্ঞান আহরণ করা তো জ্ঞানীর কাজ। এজন্য আমরা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো কি করলে মোচিক লোকসানের ঘানি টানা থেকে মুক্ত হতে পারে তা ভেবে দেখতে হবে। কেউ কেউ বলেছেন লোকসান কমিয়ে লাভের মুখ দেখতে হলে মিলের যন্ত্রপাতির আধুনিকায়ন, ঋণ ও সুদ মওকুফ, আখের জাত উন্নয়ন ও বিকল্প শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে হবে। এই লোকসানসহ নানা সমস্যার কারণে কৃষকরাও আখ চাষে উৎসাহ হারাচ্ছেন। যার কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে আখ চাষ। অবস্থা যা তাতে অর্ধ শতাব্দিকালের এই মিলটি বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। দেশী শিল্প প্রতিষ্ঠান রক্ষায় কেউ যদি সহানুভূতির মন নিয়ে এগিয়ে না আসেন তাহলে আমরা যতই উন্নয়নের কথা বলি না কেন কাক্সিক্ষত উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। আমরা অনেকটাই আমদানিকৃত চিনির ওপর নির্ভরশীল। আমাদের চিনি উৎপাদনের সব সুযোগ আছে। আছে চিনি উৎপাদনের প্রধান অনুসঙ্গ আখ উৎপাদনের উর্বর কৃষি জমি। তারপরও কেন আমরা ব্যর্থ হবো? কেন আদাদেরকে আমদানি নির্ভর হতে হবে? আমাদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে ঢালতে হবে?