নিজস্ব প্রতিবেদক ও চৌগাছা প্রতিনিধি: যশোরের চৌগাছায় মোটরসাইকেল চালক কাইয়ুম আলী হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার ভোরে ঝিনাইদহ ও মাগুরা থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় হত্যাকাজে ব্যবহৃত একটি বার্মিজ চাকু ও নিহতের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ দুইজনকে আদালতে নিয়ে তারা হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ আহমেদ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন।
আটককৃতরা হলো, চৌগাছা উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের মাসুদ রানার ছেলে অন্তর হোসেন লিমন (২২) ও নওগাঁ সদর উপজেলার শৈলকোপা গ্রামের মোতাহার হোসেনের ছেলে রাহিম হোসেন রায়হান (২৫)।
অন্তর হোসেন লিমন ও রাহিম হোসেন রায়হান পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, তারা দুইজনেই নির্মাণ শ্রমিক। বিভিন্নস্থানে নির্মাণ কাজ করাকালে অপরাধমূলক কিছু তথ্যও সংগ্রহ করে। নিহত কাইয়ুম আলী পেশায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক। মাঝে মধ্যে কাইয়ুম আলীর সাথে তাদের দেখা ও কথা হতো। আর সেই সময় থেকে কাইয়ুম আলীর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নেয়ার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে সাতমাইল বাজার থেকে ভাড়া করে কাইয়ুম আলীকে নিয়ে রওনা হয়। চৌগাছা উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে ফাঁকা মাঠের মধ্যে নিয়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা দুইজনে কাইয়ুম আলীকে গলায় বার্মিজ চাকু দিয়ে আঘাত করে। মাটিতে পড়ে গেলে তাকে গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায়। মঙ্গলবার ভোর রাতে ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জের ছোট ঘীঘাটি থেকে অন্তরকে ও মাগুরা থেকে রায়হানকে আটক করে পুলিশ। রায়হানকে আটকের সময় তার থেকে সেই বাজাজ সিটি ১০০ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে পুলিশ।এদিনই তাদের দুইজনকে যশোর আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। তারা দুইজনে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি শেষে তাদেরকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
নিহত কাইয়ুম আলীর স্ত্রী মমতাজ বেগম জানান, তার স্বামী পেশায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক ছিলেন। প্রতিদিনের মতো রোববার ভাড়ার জন্য মোটরসাইকেলটি নিয়ে বের হন কাইয়ুম আলী। তিনি রাতে বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সোমবার সকালে কায়েম আলীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।