মোঃ হাসানুজ্জামান ঝড়ু
এবারের প্রতিপক্ষ দাপুটে ভারত, বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের জন্য অনেক বড় একটা প্রতিপক্ষ। যাদের ম্যাচ জেতা হয়ে উঠেছে অভ্যাসের বিষয়, ডমিনেট করে ম্যাচ জিততে পছন্দ করে। ছোট সংস্করণের সকল উপাদান যাদের মধ্যে বিদ্যমান, পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে সব সময় প্রস্তুত। বর্তমান ক্রিকেটের অত্যন্ত জনপ্রিয় সংস্করণ এর কর্তৃত্ব যারা লম্বা সময় ধরে দাপটের সাথে চালিয়ে যাচ্ছে। আইপিএলসহ লোকাল ক্রিকেটে অনেকগুলো টি-২০ টুর্নামেন্ট সফলভাবে পরিচালিত করার মাধ্যমে ভারতের ক্রিকেটারদের গুণগত মান এশিয়ার অন্যান্য দেশের ক্রিকেটারদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ জেতানোর জন্য লম্বা প্রস্তুতির দরকার হয়, যা তারা তাদের ডমেস্টিক ক্রিকেট থেকে শিখে আসে।
পাওযার হিটিং অ্যাবিলিটি (মানে ছয় মারার ক্ষমতা) মাঠের সার্কেল ব্যবহার, বোলারের লাইন পরিবর্তন করার ক্ষমতা, মোস্ট অব দ্যা বল মাঝ ব্যাটে খেলা এবং নতুন যথাযথ ফুটওয়ার্ক, নতুন করে দলের কম্পিউটার অ্যানালাইসিস ভেন্যুর বাতাস প্রবাহের বিষয়টা এখন ব্যাটারদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। এগুলোকে মাথায় নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওর্য়ানার, ট্রেভিস হেড, বাংলাদেশের নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয় ও লিটন কুমার দাস, ভারতের বিরাট কোহেলি, ঋষভ পন্ত, সূর্যকুমার যাদব ও হার্দিক পান্ডিয়ার ক্যালকুলেক্টিভ ব্যাটিং সৌন্দর্য্য ওপেন অডিয়েন্স অথবা টিভিতে যারা খেলা দেখে তাদেরকে একটা জাযগার স্থির বসিয়ে রাখে।
বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ বিশ্লেষণ ঃ ১৩ ম্যাচ পরে একটি ৪০ উর্ধ্ব ইনিংস বাংলাদেশি অধিনায়কের (৩৬ বলে ৪১)। স্ট্রাইক রেট ১১৩ একটু বেশি। লিটন কুমার দাস এর ২৫ বলে ১৬ এই দুজনের ব্যাটিং পার্টনারশিপ ৫৮ রান ৪৮ বলে। টপ অর্ডারের বিবর্ণ রঙ কিছুটা রঙ্গিন করতে শুরু করেছিল। ভারতের সাথে আশা কারা যায় এটার ধারাবাহিকতা থাকবে।
প্যাট কামিন্স, মিশেল স্টার্ক, জশ হেজাউলড এর মত বোলারদের বিরুদ্ধে পাওয়ার প্লেতে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে উইকেটে ৩৯/১ কমই মনে হয়েছে হেড কোচ হাতুরুসিংহের কাছে। তাই হয়তো রিশাদ হোসেনকে একটু উপরে তুলে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে শট খেলার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। সাথে তার ৬ মারার এ্যাবিলিটিকে পরখ করে দেখা। ম্যাক্সওয়েল এর ৯৬.৮কিমি. গতিতে করার বলটি স্লগ সুইপ করার চেষ্টা করেছিলেন রিশাদ। কিন্তু মিস টাইমিং হওয়াতে তা আর পরিপূর্ণ শটে রুপান্তরিত হয়নি। আউট হন অ্যাডাম জাম্মার হাতে। টপ অর্ডার সফল হওয়ার পর মিডল অর্ডার কিছুটা ব্যতিক্রম ব্যাটিং করে। চার পেসার ও এক স্পিনার ও পঞ্চম স্পিনার ম্যাক্সওয়েলকে দিয়ে সাজানো দারুন অল অ্যাটাকিং দল অস্ট্রেলিয়া। তাওহীদ হৃদয় এর চোখ ধাঁধানো ২৮ বলে ৪০। ১৪২.৮৫ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটা ৬০ রানে রুপান্তরিত হলে হয়তো সংবাদ সম্মেলনে আক্ষেপ করতে হতো না, ২০-২৫ টা রান কম হবার জন্য। প্যাট কামিন্সকে হ্যাটট্রিকের জন্য অভিনন্দন জানাতে হয়। কারন শুধুমাত্র হ্যাটট্রিক করেনি। সাথে বাংলাদেশের ডেথ ওভারে রানের সংখ্যা সেটা কমিয়ে দিয়েছেন।
বাংলাদেশি পেস বোলাররা বেশ দারুণভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোর্ট করে যাচ্ছে। ভারতের সাথে শরিফুলের (যদি ফিট থাকে) তাহলে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিতেই পারে টিম মানেজমেন্ট। রোহিত শর্মা বরাবরই বাঁহাতি সুইং বোলারের বিপক্ষে একটু অধৈর্যশীল। যেটা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে অনেকবার পরিলক্ষিত। গত ম্যাচে ফজল হক ফারুকীর বলে আউট হওয়ার আগে করেছেন ৮রান। আন্তর্জাতিক ও আইপিএল মিলে ৪১২ ম্যাচ খেলা ফেলা অভিজ্ঞ সম্পন্ন ক্রিকেটারকে যে কেউ ড্রেসিংরুমে আগেই ফিরিয়ে দিতে চাইবে। ভারত ব্যাটারদের স্ট্রাইক রেট মেইনটেইন করে ব্যাটিং করাটা খুবই সহজাত প্রবৃদ্ধি।
এন্টিগায় যে দলের ব্যাটাররা মাঠের আড়াআড়ি সাইডে যত খেলতে পারবে, ততই কমফোর্ট এ ব্যাটিং করে বোর্ডে রান তুলতে সক্ষম হবে। এশিয়ান ব্যাটারদের সাইড শট খেলার প্রবণতা খুব কম। তাই বোলারদের বড় একটা অস্ত্র হতে পারে উইকেটের সামনের দিকে ব্যাটিং করানোর। বাংলাদেশি বোলারদের জন্য একটা আস্তার নাম মোস্তাফিজ। কাছাকাছি সময়ে আইপিএল খেলে আসা মোস্তাফিজের ২৪ বলের বড় একটা ভূমিকা রাখবে আশা করতে পারি।
বাংলাদেশি ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের নাম জাসপ্রীত বুমরা ও আরশাদীপ সিং। পাওয়ার প্লে, মিডল ওভার কি ডেথ ওভার যে কোন সময় উইকেট টেকিং অ্যাবিলিটি ও ইকোনমি মেইনটেইন করে বোলিং করার ক্ষমতা রাখেন। এই দুই ডেঞ্জারাস বোলার সাথে হার্ডিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজার স্পিন ঘূর্নি বাংলাদেশের জন্য হুমকি হতে পারে।
লেখক : জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার
