নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শাহারুল ইসলাম ৪ হাজার ৬১৫ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বুধবার ইভিএমে ভোটগ্রহণের পর ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র অধিকারী জানান, উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী শাহারুল ইসলাম ৯ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি আনারস প্রতীকের প্রার্থী শহীদুজ্জামান শহীদ ৫ হাজার ৮৪ ও চশমা মার্কার প্রার্থী আসাদুজ্জামান খোকন ৩ হাজার ১৮ ভোট পেয়েছেন।
এ নির্বাচনে ১৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তার মধ্যে চাঁদপুর এবতেদায়ী মাদরাসা কেন্দ্রে নৌকা ৭৭৫, আনারস ৩৬৮, চশমা পেয়েছে ১২৪ ভোট। বালিয়া ভেকুটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা ৮৪১, আনারস ২৮৮ ও চশমা প্রাপ্ত ভোট ৬১। বালিয়া ভেকুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা ৮৩০, আনারস ৩৭২ ও চশমা ৩৯ ভোট পেয়েছে। মুক্তেশ্বরী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা ৮৩৩, আনারস ২৩১ ও চশমা ১০৯ ভোট পেয়েছে। ভেকুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা ৮৪৩, আনারস ২৮৬ ও চশমা ১০১ ভোট পেয়েছে। আদর্শ সুজলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা ৪০৩, আনারস ৩১৬ ও চশমা ১৪১ ভোট পেয়েছে। সুজলপুর বর্ণমালা বিদ্যাপীঠ-২ কেন্দ্রে নৌকা ৪০১, আনারস ৩৫৪ ও চশমা ১৩৭ ভোট পেয়েছে। খোলাডাঙ্গার বর্ণমালা বিদ্যাপীঠ কেন্দ্রে নৌকা ২৫৭, আনারস ২৯৬ ও চশমা ৪৩৯ ভোট পেয়েছে। খোলাডাঙ্গা কর্মজীবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা ২০১, আনারস ১৪১ ও চশমা ৬১০ ভোট পেয়েছে। খোলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা ২৪০, আনারস ১৩১, চশমা ৫৬৬ ভোট পেয়েছে। মন্ডলগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে (দ্বিতীয়তলা) নৌকা ৫৭৫, আনারস ৩৬৪ ও চশমা ১৮৭ ভোট পেয়েছে। মন্ডলগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (নিচতলা) কেন্দ্রে নৌকা ৫৭৩, আনারস ২৮৪ ও চশমা প্রতীক পেয়েছে ১৫০।
কৃষ্ণবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা ৬৯১, আনারস ২৬৯ ও চশমা ৫৩ ভোট পেয়েছে। মালঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা ৪৪০, আনারস ৪১৯ ও চশমা ৬৮ ভোট পেয়েছে। পতেঙ্গালী এডাস স্কুল কেন্দ্রে নৌকা ৭৭৫, আনারস ৪৪১ ও চশমা ১৬২ ভোট পেয়েছে। ধোপাখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকা ১০২১, আনারস ৫২৪ ও চশমা ৭১ ভোট পেয়েছে।
এ নির্বাচন নিয়ে নৌকা ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে দ্ব›দ্ব-সংঘাতের শঙ্কা ছিলো। এজন্য তৎপর ছিল প্রশাসন। নির্বাচনে ৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশের ৪ টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ৫ টি মোবাইল টিম, ৪টি চেকপোস্ট, এক প্লাটুন বিজিবির সদস্য, র্যাবের ২ টি মোবাইল টিম নিয়োজিত ছিলো। এছাড়া ১৬ টি ভোট কেন্দ্রের প্রতিটিতে ১০ জন পুলিশ ও ৬ জন আনসার ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। ফলে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়নের সকল কেন্দ্রেই ভোট শুরুর প্রথম দিকে ভোটারের উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করে ভোটারের উপস্থিতি।
সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ইউনিয়নের ভেকুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যেয়ে দেখা যায়, ভোট কক্ষে প্রবেশের আগে ভোটারদের মোবাইল ফোন ও প্রার্থীদের প্রতীক সম্বলিত ব্যাচ থাকলে ঢুকতে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
ভেকুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা বৃদ্ধ শুকুর আলী বলেন, আর বেশিদিন হয়তো বাঁচবো না। রিকসায় করে এসে ভোট দিতে আসলাম। কেন্দ্রে আনসার সদস্য ও পুলিশ ভোট দিতে সহযোগিতা করেছে। মরার আগে এইভাবে ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সেলিম রেজা বলেন, সকাল ৮ টা থেকে ইভিএমে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। তিনি জানান, গ্রামের মানুষ ইভিএম সম্পর্কে ধারণা কম। ধারণা না থাকায় ভোট গ্রহণে কিছুটা ধীরে হচ্ছে। তবে কেউ ভোট না দিয়ে চলে যাচ্ছে না।
মুক্তেশ্বরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যেয়ে দেখা গেছে নারী ভোটারদের লাইন। ৪টি লাইনের মধ্যে ৩টি লাইনে দীর্ঘ লাইন। এই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা তহমিনা খাতুন বলেন, বাড়িতে অনেক কাজ আছে তাই সকাল সকাল ভোট দিতে আসলাম। ইভিএমে প্রথম ভোট দিলাম। প্রথমে ইভিএম মেশিনে সমস্যা হলেও ভোট দিয়ে এসেছি। তরুণ ভোটার ইমন আলী বলেন, প্রথম ভোট দিলাম তার পরে ইভিএমে ভালো লাগছে। অজিত ঘোষ নামে আরেক বৃদ্ধ ভোটার বলেন, মেশিনে ভোট দিলাম; প্রথমে ভাবছিলাম কেমন হবে দিতে পারবো কিনা! কোন সমস্যা হয়নি। নির্বাচনে দায়িত্ব কর্মকর্তারা সব শিখিয়ে দিয়েছে। তার পর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি।
জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার আনিছুর রহমান বলেন, আরবপুর ইউনিয়নবাসীকে আমরা সুষ্ঠু, সুন্দর এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচন উপহার দিয়েছি। এবার ১৬টি কেন্দ্রে ৮৯টি বুথে ৩২ হাজার ৮০০ ভোটার ছিলো। ভোট দিয়েছেন ১৭ হাজার ৮০১ জন।
নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) বেলাল হোসাইন সাংবাদিকদের বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।