নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের জেস টাওয়ারের সত্ত্বাধিকারী মতিয়ার রহমান বাবু (৬৭) আর নেই। মঙ্গলবার ভোর ৪ টার দিকে তিনি ঢাকায় বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না…রাজিউন)। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। সোমবার রাতে তার মৃত্যুর খবর জানিয়ে অনেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন। কিন্তু তখন পর্যন্ত তিনি বেঁচে ছিলেন। অবশ্য ফেসবুকে পোস্টদাতারা পরে ভুল স্বীকার করেন। ফের লেখেন মতিয়ার রহমান বাবু মৃত্যুর খবর সত্য নয়। কিন্তু মঙ্গলবার ভোর রাতে সত্যিই তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার বড় মেয়ে মাইশা কবির চিকিৎসক। ছোট মেয়ে ও ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় বিশ^বিদ্যালয়ে চাকরি করেন। স্ত্রীসহ তিনি ঢাকায় অবস্থান করতেন। মাসে দু’একবার যশোরে এসে শহরের রেল রোডের বাড়িতে থাকতেন।
মতিয়ার রহমান বাবু ছিলেন এমকে গ্রুপ, পিপল লিজিং এবং যশোর জেস টাওয়ারের চেয়ারম্যান। আবাসন ব্যবসা ছাড়াও তিনি আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভলিবল পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি খাজুরায় খবিরউর রহমান ডিগ্রি কলেজ নামে একটি ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। যশোর শহরের শংকরপুরে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠায় তার অবদান রয়েছে। পরে কৃতজ্ঞতা স্বরুপ মাদ্রাসাটি তার নামেই (আলহাজ্ব মতিউর রহমান মাদ্রাসা) নামকরণ করা হয়। তার অর্থায়নে যশোর বালিকা বিদ্যালয়ের (সাবেক নৈশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়) নতুন ভবন নির্মিত হয়েছে। এছাড়া তিনি অংসখ্য মসজিদ, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। গতকাল দুপুর ১২টায় ঢাকার গুলশান আজাদ মসজিদে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে তার মরদেহ যশোরে আনা হয়। পরে বাদ এশা যশোর ঈদগাহ ময়দানে তার নামাজে জানাজা শেষে কারবালা কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে ঈদগাহে মরহুমের মরদেহ আনা হলে যশোরের বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠক ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।
তার বাল্যবন্ধু ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল হক বাদল জানিয়েছেন, মতিয়ার রহমান বাবু প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি ঢাকার বার্ডেম হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে নানা পরীক্ষার পর তার শরীরে ইনফেকশন ধরা পড়ে। যার প্রভাবে আস্তে আস্তে তার কিডনি ফেইল করতে থাকে। শরীরের প্রেসার ও সুগার কমে যেতে থাকে। রোববার তাকে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে সোমবার সন্ধ্যায় তার কিডনি ডায়ালাসিসের উদ্যোগ নেন চিকিৎসকেরা। এসময় তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। তখন মারা যাওয়ার তথ্য ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। পরে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লিখে অনেকেই আপডেট তথ্য জানান। তবে মঙ্গলবার ভোর ৪টার সত্যি সত্যিই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন মতিয়ার রহমান বাবু।
এদিকে তার মৃত্যুতে জেলার বৃহত্তম শপিংমল জেস টাওয়ারের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। আলাদা বিবৃতিতে তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
