নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের কিছু ব্যবসায়ী সয়াবিন তেল মজুত রেখে কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি করছে। এদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা জরুরি হয়েছে পড়েছে বলে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রস্তাব রাখা হয়। এছাড়া মোটরসাইকেলে তিনজন করে চলাচল বন্ধ ও চুরি বন্ধের বিষয়ে পুলিশের পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়।
রোববার জেলা প্রশাসক সভাকক্ষ অমিত্রাক্ষরে সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, পারিবারিক সহিংতায় খুন ও মারামারি আইনশৃঙ্খলার মধ্যে আনা যাবে না। এজন্য সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। আইন শৃঙ্খলার সাথে নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিজেকে করতে হবে। ঈদের সময় শার্শা, চৌগাছা সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্য না আসতে পারে এজন্য ওই সব স্পটগুলোতে কড়া নজরদারি অপরাধ ঘটবে না। এজন্য বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ সদস্যদের সঠিক দায়িত্ব পালনের অুনরোধ করা হয়।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, রোজা ও ঈদকে সামনে রেখে বাজারের মধ্যে রিক্সা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল করার কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে ক্রেতাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যুবক ছেলেরা মোটরসাইকেলে করে বাজারের ভেতরে ঢুকে মেয়েদের উক্ত্যক্ত করছে। এজন্য বাজারে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য পুলিশের টহলের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সাথে যানজট নিরসনের জন্য বাজারের ভেতর রিক্সা ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করতে হবে।
চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাট্রিজের সাধারণ সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান বলেন, বাজারে চুরির সংখ্যা বেড়েছে। কাপড়িয়াপট্টি, নতুন বাজার ও নিউমার্কেটে দোকানের সার্টার খুলে চুরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। চুরি থেকে ব্যবসায়ীদের রক্ষা করতে রাতে পুলিশের টহল বাড়ানো উচিৎ। ব্যবসায়ীদের অনুরোধে ১০ রমজান পর্যন্ত রিক্সা, ভ্যান চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে। ঢাকা থেকে সয়াবিন তেল কোম্পানি খোলা বাজারে বিক্রি করছে। আমাদের কিছু করার নেই।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, রোজার মধ্যে বাজারে যানজট নিরসনে রিক্সা ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। ব্যবসায়ীদের মালামাল আনা নেয়ার স্বার্থে তাদের অনুরোধে আবার চালু করে দেয়া হয়। আবার বন্ধ করে দেয়া হবে। মোটরসাইকেলে তিনজন করে যুবক চলাচল বন্ধের বিষয়ে রাজনৈতিক কর্মীদের সতর্ক করে দেয়ার জন্য নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান। এদের তিনজন করে মোটরসাইকেলে ঘোরার প্রবণতা থাকে। ঈদকে সামনে রেখে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সকলের সহযোগিতায় অপরাধ দমন করা হবে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, যে কোন ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় থাকুক না কেন, সে মাদক ব্যবসা বা অপরাধের সাথে জড়িত থাকলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।
লোকসমাজ পত্রিকার প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত বলেন, ভোক্তার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া উচিৎ। ব্যবসায়ীরা গোডাউনে সয়াবিন তেল মজুত রেখে সংকট সৃষ্টি করছে। লিটারের পরিবর্তে কেজিতে বিক্রি করছে। এতে করে ভেজাল দেয়ার সুযোগ আছে। এবিষয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা জরুরি।
এসময় বক্তব্য রাখেন বিজিবির সহকারী পরিচালক সোহেল আল মোজাহিদ, মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক আসলাম হোসেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি গোলাম রসুল, যশোর সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোফাজ্জেল হোসেন, অ্যাডভোকেট নাসিমা খাতুন প্রমুখ। এসময় বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার।
