নিজস্ব প্রতিবেদক
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে যশোরে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের আচরণবিধি লংঘনের হিড়িক পড়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর হামলা, নৌকা-স্বতন্ত্র সমার্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে, যানজটসৃষ্টি করে শোডাউন ও ব্যানার ব্যবহারে নিয়ম না মানায় গত এক সপ্তাহে ৩৪টি অভিযানে অন্তত ৪৫ জনকে জরিমানা করা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতে। একই সাথে আচরণবিধি মেনে চলতে সতর্ক করা হয়েছে। ৬টি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই এসব আচারণবিধি লংঘনের জরিমানা গুনছেন। তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এখনো আচরণবিধি লংঘণের অভিযোগ মেলেনি।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ৬টি আসনে প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অপরাধে এক লাখ সাত হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে ৩৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই জরিমানা আদায় করা হয়। যশোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জেলার ৬টি আসনে ১১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এই আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানগুলোর মধ্যে যশোর-১ (শার্শা) আসনে ৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা, যশোর-২, (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে ৬টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা, যশোর-৩ (যশোর সদর, বসুন্দিয়া ব্যতিত) আসনে ২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৭ হাজার টাকা, যশোর-৪ (বাঘারপাড়া ও অভয়নগর এবং বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনে ১১টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২৯ হাজার টাকা, যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ৭টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩১ হাজার টাকা এবং যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সোমবার আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযোগে সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের মঠবাড়িয়া গ্রামে নৌকার প্রতীকের কর্মী আলী হোসেনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুর রহমান জানান, ওই গ্রামে নির্বাচনী কার্যালয়ে সাজসজ্জার অভিযোগে নৌকা প্রতিকের সমর্থককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে উপস্থিত সবাইকে আচরণবিধি মেনে চলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের নৌকার প্রার্থী ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিনের এক কর্মীকে আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ১৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের মনিরামপুর-চুকনগর সড়কে যানজট সৃষ্টি ও মোটরসাইকেলে নির্বাচনী শোডাউন করায় নৌকার প্রার্থী স্বপন ভট্টাচার্যের প্রধান কর্মী মনিরামপুর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র মাহামুদুল হাসানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
একই দিন যশোরের কেশবপুরে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে মোটরসাইকেল শোডাউন করায় যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শাহীন চাকলাদারের দুই কর্মীকে জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কেশবপুর পৌর শহরের হাসপাতাল মোড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই দুজনকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। হাসপাতাল মোড়ে নৌকা প্রতীকের কর্মী উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের রনি খান (২৮) ও একই গ্রামের মুন্না আজিজকে (২৩) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ লঙ্ঘন হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
একই দিনে যশোর-১ (শার্শা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম লিটন ও তার সমর্থকদের উপর হামলা চালায় বন্দরের শ্রমিকরা। এ হামলায় জড়িত তিনজনকে ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার বলেন, ‘অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন পর্যন্ত কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেও
য়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন করার দায়ে ৩৩টি অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। প্রতিটি উপজেলায় পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে। যে অপরাধ করবে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনে ৩২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী করছেন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের ৬জন ও জাতীয় পার্টির ৬জন, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ৮জন প্রার্থী রয়েছেন। বাকীরা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়ছেন।
