নিজস্ব প্রতিবেদক: সিএনজি চালকের স্ত্রীর অপারেশনের রক্ত কিনে না দিয়ে টাকা আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যশোরে আলমকে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে সাতজন জড়িত বলে তারা জানিয়েছে। মামলার দুই আসামি সোহান ও আইজুল আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছে। বুধবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মঞ্জুরুল ইসলাম আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আইজুল শহরের কাজীপাড়ার ফারুকের ছেলে ও সোহান একই এলাকার শহিদুল কাঠ মিস্ত্রির ছেলে।
জবানবন্দিতে আইজুল ও সোহান জানিয়েছে, ঘটনার বেশ কিছুদিন আগে শহরের গরীব শাহ মাজারের সামনে একজন সিএনজি চালক আলমের সাথে ঝগড়া করছে। এসময় তারা কয়েক বন্ধু এগিয়ে জনতে পারেন ওই সিএনজি চালকের স্ত্রী যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। সিজারের জন্য তার স্ত্রীর দুই ব্যাগ রক্ত লাগবে। এ রক্ত আলম ম্যানেজ করে দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ১৩শ’ টাকা নিয়ে রক্ত দিচ্ছে না। এ কথা শুনে তারা হাসপাতালে যেয়ে রক্ত দিয়ে আলমকে টাকা ফিরিয়ে দিতে বলেন ওই সিএনজি চালককে। আলম এ টাকা না দিয়ে ঘোরতে থাকেন। গত ২৪ মার্চ দুপুরে বাবলু, ইকরামুল, রুমান, শাওন, বাবু ও তারা দুইজন কাজীপাড়ার গোলামপট্টির আঞ্জুমানআরা স্কুলের পিছনের রাস্তায় ডাব খাচ্ছিল। এ সময় আলম ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। আলমে থামিয়ে রক্তের টাকা ফেরত দিয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হয়। এ সময় অলম উত্তেজিত হয়ে টাকা ফেরত দিবেনা বলে জানিয়ে দেয়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ডাব কাটা ছুরি দিয়ে আলমের উরুতে আঘাত করা হয়। এরপর দৌড় দিলে অন্য একজন এ ছুরি নিয়ে আলমের পিছনে কোপ দেয়। তাদের মধ্যে আরও দুইজন ডাব দিয়ে আঘাত করলে আলম মাটিতে পড়ে যায়। সকলে একসাথে চিৎকার করে ধাওয়া দিলে আলম উঠে বাড়ির দিকে দৌড়ে চলে যায়। এ ঘটনার সাথে এজাহারনামীয় সকলে জড়িত নয়। তারা তারা দুইজনসহ ৬/৭ জন জড়িত ছিল। কয়েকদিন পর আলম মারা গেছে বলে তারা জেনেছে।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি কোবান আলী পচাকে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ মামলা প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য আসামিরা নিহতের পরিবারের উপর ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। নিহত পচার পরিবার এ মামলা প্রত্যাহার করতে রাজি না হওয়ায় আসামিরা তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়। এ শত্রুতার জের ধরে চলতি বছরের ২৪ মার্চ দুপুরে শহরের পুরাতন কসবা গোলামপট্টিতে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে আহত হন নিহত পচার ভাই ইজিবাইক ব্যবসায়ী আলম। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ মার্চ ভোরে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মুরাদ ৭ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আটক পিরুসহ আত্মসমর্úণকারী চার জনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। বিচারক সোহাগ, সোহান ও আইজুলের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গতকাল আসামিদের রিমান্ড শেষে আদালতে সোপর্দ করা হলে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ওই জবানবন্দি দিয়েছে সোহান ও আইজুল।