নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকার কোরবান আলী পচা হত্যা মামলায় ৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা পুরাতন কসবা ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিম।
অভিযুক্ত আসামিরা হলো, কাজীপাড়ার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে আমিরুল ইসলাম, খোলাডাঙ্গার সরদার পাড়ার সিরাজুল ইসলাম চন্টু মিয়ার চার ছেলে রোকন হাসান রনি, পিয়ারুজ্জামান পিরু, মেহেদী রানা, মনির হোসেন মিরু, জন বিশ্বাসের ছেলে রিচার্ড বিশ্বাস ও সদরের সজলপুর গ্রামের মোহাম্মদ লেলিনের ছেলে অপু।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আসামিরা বেলা ১১টার দিকে শহরের সেবাসংঘ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোরবান আলী পচা মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে রনি ও তার সহযোগীরা গতিরোধ করে। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রনির ভাই মিরুর (ডাব ব্যবসায়ী) ডাব কাটার দা দিয়ে কোরবান আলী পচাকে কুপিয়ে ও চাকুর আঘাতে রক্তাক্ত করে ফেলে চলে যায়। কোরবান আলীকে উদ্ধার করে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ ফেব্রুয়ারি মারা যান কোরবান আলী পচা। এ ঘটনায় ১০ ফেব্রুয়ারি নিহতের ভাই জাহাঙ্গীর আলম চারজনের নাম উল্লেখ করে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে কোতয়ালি থানায় হত্যা চেষ্টর অভিযোগে মামলা করেন। পচা মারা যাওয়ার পর হত্যা চেষ্টা মামলাটি হত্যা মামলায় রুপান্তর হয়।
মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, কোরাবান আলী পচা ও আসামিরা একই সাথে চলাফেরা করত। আসামিদের সাথে গাছ বিক্রির টাকার ভাগাভাগি, আসামি রিচার্ডের কাছে চাঁদা দাবি ইত্যাদি নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি সকালে আসমিরা পচাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। বেলা ১১টার দিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী সেবাসংঘ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পচাকে পেয়ে আসামিরা কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। ২১ ফেব্রুয়ারি পচা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে আটক আসামিদের দেয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় ওই ৭ জনকে অভিযুক্ত আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। চার্জশিটে অভিযুক্ত অপুকে পলাতক দেখানো হয়েছে।