নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের চিহ্নিত মাদক কারবারি মরার ডেরায় হানা দিয়েছে ডিবি পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মরার ছেলে আপন ও স্ত্রী আসমা খাতুন পালিয়ে গেলেও তাদের সহযোগী বৃষ্টি বেগম ছন্দা ওরফে ফরিদাকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৫শ’ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাতে যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া কয়লাট্টি থেকে বৃষ্টি করা হয়। আটক বৃষ্টি একই এলাকার তেঁতুলতলার হীরা মোল্যার স্ত্রী।
পুলিশ জানিয়েছে, যশোরের শীর্ষ মাদক কারবারীদের মধ্যে হোসেন আলী মরা অন্যতম। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার করে আসছিলেন তিনি। শুধু তাই নয় অন্য কারবারীদের কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে হিস্যা আদায় করতেন নিয়মিতভাবেই। এই সুযোগে মরার স্ত্রী আসমা খাতুন, ছেলে আপন, মা সাহিদা সাই, শাশুড়ি নাহার, শ্যালক অন্তর, ভাই দর্জি বাচ্চু, বোন রেখা, মঙ্গলী ও ভানু, মঙ্গলীর স্বামী চিহ্নিত সন্ত্রাসী গোল্ডেন সাব্বির, ভানুর স্বামী ডলারসহ একই পরিবারে প্রায় ডজন খানেক লোক প্রতিনিয়ত ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন ও গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরণের মাদকের কারবার করে আসছে। মাঝেমধ্যে বিক্রি করা মাদক নাকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে নেয়া হয়েছে এমন তথ্য অন্য কারবারি বা ক্রেতাদের কাছেও প্রকাশ করেন মরা ও তার পরিবার। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কারবার করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকেন। কিন্তু গত ১ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যশোর ক-সার্কেলের এসআই সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালায় মরার বাড়িতে। সাড়ে সাতশ’ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয় মরাকে। এই ঘটনার মামলায় মরা জেলখানায় থাকলেও তার ছেলে আপনই এখন পিতার মাদকের ব্যবসার হাল ধরেছেন। তবে বসে নেই পরিবারের অন্য সদস্যরাও। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই শাহিনুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম মরার ডেরায় অভিযান চালায়। কিন্তু অভিযানের বিষয়টি আগে থেকেই আঁচ করতে পেরে পালিয়ে যান মরার ছেলে আপন ও স্ত্রী আসমা খাতুন। আটক করা হয় বৃষ্টি বেগম ছন্দা ওরফে ফরিদাকে। এসময় তার কাছ থেকে ৫শ’ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ওই রাতেই তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দিয়ে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রমরমা কারবার করতে ওইদিন এক লাখ পিস ইয়াবা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে বৃষ্টির মাধ্যমে যশোরে এনেছে মরার ছেলে আপন। কিন্তু পুলিশের অভিযানের বিষয়টি আগে থেকেই টের পেয়ে এক লাখ পিস ইয়াবা অন্যাত্র সরিয়ে রেখেছেন আপন। খুচরা বিক্রির জন্য রাখা বৃষ্টির কাছ থেকে ওই ৫শ’ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে মামলা দিয়েছে পুলিশ।
এই ব্যাপারে ডিবি পুলিশের ওসি রুপন কুমার সরকার জানিয়েছেন, মরার পরিবারের সবাই মাদকের কারবার করে বলে শুনেছি। সে কারণে ঘটনার দিন সেখানে অভিযান চালিয়ে মরার সহযোগি বৃষ্টিকে ৫শ’ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে। তবে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
