নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘পদে আসীন ছাত্রদল নেতা পলাশ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মাসুদ’ শীর্ষক সংবাদ ছিল সোমবার টক অব দ্যা যশোর। বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের কাছে ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ওয়ার্ড যুবদলের কমিটিতে করা আত্মীয়করণ ও বিতর্কিতদের ঠাঁই দেওয়ার কারণে খোদ বিএনপির মধ্যে ছিল সমালোচনার ঝড়।
ওয়ার্ড বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, সামনে নগর যুবদলের কমিটি গঠন হবে। বর্তমান কমিটির আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ ও সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। যে কারণে তাদের নিজেদের পছন্দমতো ৮টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করেছেন। যাতে তাদের পদ ঠিক থাকে।
ঘোষিত যশোর নগর যুবদলের কমিটিতে রাখা হয়েছে সাবেক জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি প্রয়াত কবির হোসেন পলাশ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মাসুদ রানাকে। তাকে করা হয়েছে ৬ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা কল্যাণকে বলেন, নিজ দলের একজন জনপ্রিয় নেতার হত্যার সাথে জড়িত বিতর্কিত একজনকে যুবদলের পদ দেয়ায় অনেক নেতার বুকে রক্তক্ষরণ হয়েছে। অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ৬ নং ওয়ার্ডে অনেক ত্যাগী কর্মী ছিল যারা এ পদের দাবিদার। কিন্তু মোটা টাকা লেনদেনের মাধ্যমে নিজ ওয়ার্ডের বিতর্কিত মাসুদ রানাকে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানার সুপারিশে নগরের আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ ও সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রবি ৬নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের পদ পাইয়ে দেয় মাসুদকে।
এছাড়াও ৭ নং ওয়ার্ডে সভাপতি করা হয়েছে নগর যুবদলের আহবায়ক আরিফুল ইসলামের ছোট ভাই আশরাফুল ইসলাম আশরাফকে। এই ওয়ার্ডের সভাপতি প্রার্থী সাইফুল ইসলাম সিপু অভিযোগ করে কল্যাণকে বলেন, টাকার বিনিময়ে ও নিজের স্বজনদের দিয়ে পকেট কমিটি করেছেন আরিফুল ইসলাম। অথচ তার ভাই আশরাফ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আসাদুজ্জামান মিঠুর সাথে থাকেন সবসময়। সাধারণ সম্পাদক আশিকুল চলাফেরা করেন আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরীর সাথে। এমন কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
ওয়ার্ড বিএনপির কোন নেতার মতামত না নিয়েই শুধুমাত্র আরিফ ও রবির নিজের এলাকার কয়েকজনকে নিয়ে পকেট কমিটি করেছেন। এতে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।
এদিকে, যশোর জেলা যুবদলের সভাপতি তমাল আহমেদ রোববার দৈনিক কল্যাণে প্রকাশিত খবরে তার বক্তব্যর একটি অংশে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। গতকাল লিখিত বক্তব্য তিনি বলেছেন, শহীদ কবির হোসেন পলাশের কোন পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ এবং অর্থদাতা কোন খুনির পদ পদবি যুবদল দিতে পারে না। পদ পদবি দিলে পলাশের রক্তের সাথে ও শহীদ পরিবারের সাথে হবে বেঈমানি। ওয়ার্ড কমিটি গঠন করার এখতিয়ার হলো নগর যুবদলের। তারা যদি কোন বিতর্কিত কাউকে দায়িত্ব দিয়ে থাকে তবে সেটা তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।