নিজস্ব প্রতিবেদক
‘আজি শুভ দিনে পিতার ভবনে অমৃত সদনে চলো যাই…’ শ্লোগানকে সামনে রেখে যশোরে সাড়ম্বরে ‘বিশ্ব বাবা দিবস উদযাপিত হয়েছে। বিশ্ব বাবা দিবস উদযাপন পর্ষদ-২০২৩ এর উদ্যোগে এবার দু’দিনব্যাপী উৎসবের সমাপনী দিন রোববার অনুষ্ঠানে তিন ‘সৎ ও সার্থক’ বাবাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সংবর্ধিত তিন বাবা ছিলেন দিলিপ দাস, খায়রুল বাশার ও প্রকৌশলী এস এম নূরুল ইসলাম। এছাড়া আলোচনা, অনুভূতিতে বাবা শীর্ষক ছবি আঁকিয়ে শিশুদের মাঝে পুরস্কার ও উপহার বিতরণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
এদিন সন্ধ্যা যশোর শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে এ উৎসবে বাবা-সন্তানের এই সমাবেশে বাবাকে নিয়ে নানান অনুভূতিতে মেতে ওঠেন সবাই। ছিল বাবা ও সন্তান সমাবেশ, প্রাণবন্ত আড্ডা আর সংগীতানুষ্ঠানে সাজানো বর্ণাঢ্য আয়োজন। শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে বাবা-সন্তানের মিলনমেলা।
এর আগে ১৭ জুন শিল্পকলা একাডেমির আর্ট গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয় ‘অনুভূতিতে বাবা’ শীর্ষক শিশুদের ছবি আঁকা।
গতকাল সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান। সভাপতিত্ব করেন বিশ্ব বাবা দিবস উদ্যাপন পর্ষদের সভাপতি আমিরুল ইসলাম রন্টু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তমিজুল ইসলাম খান বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের দিবস উদ্যাপন করা হচ্ছে। যার অনেকটাই দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তিনি বলেন, ভার্চুয়াল জগত আর বাস্তবতা ভিন্ন। সত্যিকার অর্থেই যেন বাবা মা তথা পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আনুগত্য প্রকাশ পায়, সন্তানদের সে ব্যাপারে যত্নশীল হতে হবে।
মো. তমিজুল ইসলাম খান আরও বলেন, ‘বাবা দিবস’ বা ‘মা দিবস’ উদ্যাপন যদি সন্তানদের মাঝে বাবা মায়ের প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধার তাগিদ বাড়িয়ে দেয় তবে এ দিবস উদ্যাপন সার্থক হবে। তিনি বলেন, সন্তানদের যেমন বাবা মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আনুগত্য প্রদর্শন করতে হবে; তেমনি সন্তানের প্রতিও বাবা মায়েদের দায় দায়িত্বে কোন শিথিলতা যেন না আসে এটা মনে রাখতে হবে।
বিশেষ অতিথি ছিলেন আইইবি যশোর কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাহমুদ হাসান বুলু ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু। সৎ, সফল ও সার্থক তিন বাবার একে একে পরিচিতি তুলে ধরেন বিশ্ব বাবা দিবস উদযাপন পর্ষদ-২০২৩ যশোরের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুণ অর রশীদ।
বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে আলোচনা করেন যশোর কলেজের অধ্যক্ষ মুস্তাক হোসেন শিম্বা ও রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ যশোরের সভাপতি শ্রাবণী সুর।
স্বাগত বক্তব্য দেন এবং বাবা দিবসের মূল প্রবন্ধ পাঠ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাবা দিবস উদ্যাপন পর্ষদের সদস্য সচিব প্রণব দাস।
এ পর্বে অনুভূতিতে বাবা শীর্ষক চিত্রাংকন ও লেখায় উচ্চমানপ্রাপ্তদের সনদ ও উপহার বিতরণ করা হয়।
শেষে একক সংগীত পরিবেশন করেন মোয়াজ্জেম হোসেন স্বপন, অনুপম দাস, সুব্রত দাস ও সরজিৎ কুমার মন্ডল, প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি…’ ও উদ্বোধনী সংগীত ‘আজি শুভ দিনে পিতার ভবনে অমৃত সদনে চলো যাই…’ পরিবেশন করেন উদীচী যশোরের শিল্পীবৃন্দ। প্রয়াত অধ্যাপক সুকুমার দাসসহ সকল বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সঞ্চালনা করেন সাধন কুমার দাস ও দেবাশীষ রাহা।
‘অনুভূতিতে বাবা’ শীর্ষক চিত্রাংকন ও চিঠি লেখায় অংশগ্রহণকারী উচ্চমানপ্রাপ্ত শিশুদের মাঝে সনদপত্র ও উপহার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। উচ্চমান সনদপ্রাপ্ত শিশুরা হলো জাইফ রাফমান রহমান, ইফফাত জামান রায়া, অদিতি ঘোষ, মারিয়া জুমাইনা লাইবা, নিতিকিা বৈরাগী ও সূর্য সরকার, জুনাইরা আক্তার, কাজী শাহরিন রহমান, অরাত্রিকা চ্যাটার্জী শ্রীজা, অন্তিকা মজুমদার, জুনাইনা আক্তার, সৈয়দা আয়াতুল জান্নাত , প্রকৃতি রায়, অধরা ভট্টাচার্য্য, পরম মল্লিক অরিত্র ও লাবিবা জামান লিবা।
