নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার জেলার সদর উপজেলা ও কেশবপুরের পৃথক পৃথক জায়গা থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিন সকালে সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের কৈখালী গ্রামে ভৈরব নদ থেকে অজ্ঞাত এক পুরুষের মরদেহ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে মরদেহর পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তিনি সদর উপজেলার শমসপুর এলাকার মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুস সামাদ(৭০)। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। ২০ দিন আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। তার জামাতা মো. আসাদুল তার মরদেহ শনাক্ত করেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে ভৈরব নদের ওই পাশ থেকে দুর্গন্ধ আসতে থাকে। পরবর্তীতে তারা পাড়ে যে দেখে এক ব্যক্তির মরদেহ ভাসছে। তাৎক্ষণিক পুরুষকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে হাজির হয় তারা।
এ বিষয়ে যশোর ডিবি পুলিশের উপ পরিদর্শক মফিজুল ইসলাম বলেন, নদী থেকে উদ্ধার করা বৃদ্ধের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানা গেছে। ২০ দিন ধরে বাড়ি থেকে নিখোজ ছিলেন। লোকটি দাইতলা বাজার এলাকায় ঘুরাঘুরি করত। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে মৃত্যের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
এদিকে, যশোরের কেশবপুুর থানা পুলিশ বাবলু চন্দ্র ঘোষ (৪৬) নামে এক মুদি ব্যবসায়ীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। সে বায়সা গ্রামের মৃত অতুল চন্দ্র ঘোষের ছেলে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার বায়সা গ্রামের মৃত অতুল চন্দ্র ঘোষের ছেলে বাবলু চন্দ্র ঘোষ (৪৬) কেশবপুর পৌরশহরের একজন মুদি ব্যবসায়ী। সে প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসী বায়সা কালীবাড়ি সংলগ্ন গোল্ড ইট ভাটার উত্তর পাশে সন্তোষ ঘোষের আবাদি জমিতে তার মৃতদেহ দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহতের আপন ভাই গনেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, আমার ছোট ভাই কেশবপুরের মুদির ব্যবসা করতো। সে বিভিন্ন মানুষের কাছে অনেক টাকা দেনা। সেই কারণে হয়তো আত্মহত্যা করেছে। এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ উপ-পরিদর্শক লিটন চন্দ্র দাস বলেন, নিহতের শরীরের কোথায় কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে তিনি বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। তার শরীরে বিষের গন্ধ এবং লাশের পাশে বিষের বোতল পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জহিরুল আলম বলেন, মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করাসহ নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। যার নং -৪৮। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
