নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে দোকান কর্মচারী রাজিম ওরফে সজিব হত্যার ঘটনায় ৫জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নিহতের পিতা শহরতলীর ঝুমঝুমপুর এলাকার বাদল হোসেন খান এই মামলাটি করেছেন। পুলিশ এই মামলার দুই আসামিকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু ও শার্টসহ গ্রেপ্তার করেছে।
তারা হলো, শহরের মোল্যাপড়া বাঁশতলা মোড় এলাকার ইয়াছিন হোসেনের ছেলে পায়েল (২০) এবং একই এলাকার রইজ উদ্দিনের ছেলে রায়হান (১৯)।
এই মামলার পলাতক অন্য আসামিরা হলো, পূর্ববারান্দী মোল্যাপাড়ার বিপ্লব ওরফে চাকমা বিপ্লবের ছেলে ইয়ামিন পারভেজ (১৯), রুস্তুম গাজীর ছেলে শিমুল হোসেন (২৫) এবং ঝুমঝুমপুর চান্দের মোড় এলাকার আবু বক্কার সিদ্দিকীর ছেলে রায়েব সিদ্দিক (১৭)।
পুলিশ জানিয়েছে, ইয়ামিনের সাথে পূর্ব বিরোধের জের ধরে রাজিমকে খুন করার পরিকল্পনা করা হয়। পাশাপাশি ইয়ামিন তার সহযোগী ওই আসামিদের সাথে শলাপরামর্শ করে। গত ৯ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে রাজিম শহরের বড় বাজারের চুড়িপট্টির ভাই ভাই হোসিয়ারি স্টোর নামক দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছিল। এসময় আসামিরা তাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে যায়। বিপি স্টোরের পিছনে গলির মধ্যে নিয়েই রাজিমকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এসময় রাজিম জীবন বাঁচাতে দৌড়ে পাশের গলির একটি মুরগি দোকানের সামনে গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে আশপাশের লোকজনের চিৎকারে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এরপরে রাজিমকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
ঘটনার পরই শুরু হয় আটক অভিযান। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা এলাকা থেকে রায়হানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একইদিন রাত ৮টার দিকে যশোর শহরের ঘোপ এলাকা থেকে পায়েলকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি চাকুসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি রায়েব সিদ্দিক নামে আরেক আসামির রক্ত মাখা শার্ট উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার মামলার অপর আসামিদেও গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্নস্থানে অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক।
উল্লেখ্য, যে এই হত্যাকাণ্ডের পরই আসামি ইয়ামিন পারভেজকে তার ভগ্নিপতি শক্তি একটি মোটরসাইকেলে নিয়ে শহরের রাঙ্গামাটি গ্যারেজ এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। রাতেই পুলিশ এবং র্যাব শক্তির বাড়িতে অভিযান চালায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
