নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের আট উপজেলায় বিভিন্ন সড়কের সরকারি গাছ কেটে বছরের পর বছর ধরে যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে। অথচ কয়েক কোটি টাকার ওই গাছ বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। সড়কের পাশে ও বিভিন্ন দপ্তর প্রাঙ্গণে গাছগুলো ফেলে রাখায় রোদ-বৃষ্টিতে সেগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ সুযোগে গাছ চুরির হিড়িকও পড়েছে। যে কারণে সরকার কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হতে বসেছে। এমন পরিস্থিতিতে এসব গাছ দ্রুত দরপত্র আহ্বান করে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করার নির্দেশ দিয়েছেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। রোববার জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান।
সভায় জানানো হয়, যশোর শহরের পুলেরহাটে সম্প্রতি চালু হয়েছে আদ-দ্বীন ৫০০ শয্যার হাসপাতাল। হাসপাতালটি মুক্তেশ্বরী নদী ও পাশেই পুলেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে। সভায় সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক। তদন্তে দখলদারিত্ব প্রমাণ হলে দ্রুত অভিযান চালানো হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। যশোরের কপোতাক্ষ খনন কাজ চলমান রয়েছে।
খনন কাজে কোন অনিয়ম প্রশ্রয় দেয়া হবে না। সঠিকভাবে খনন কাজ যাতে হয় নিয়মিত সংশ্লিষ্টদের নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়। এছাড়া শার্শার বেতনা ও হাকর নদী দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সাথে বেতনা নদী খননের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে পারে। এই জন্য পৌরসভা সংশ্লিষ্টদের এখই নজরদারি বাড়ানো ও ডেঙ্গু এবং মশা নিধক কার্যক্রম চালু করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। যশোরের বিভিন্ন হাসপাতাল ক্লিনিকের বিভিন্ন বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করছে না। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বারবার এসব ক্লিনিকদের নির্দেশনা দেয়ার পরেও সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না হওয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক। এসব ক্লিনিক হাসপাতাল কর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া যশোরে দিনকে দিন ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এখনই স্বাস্থ্য সচেতন এবং ডায়রিয়া প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে প্রকোপ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। সভায় ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে পৌরসভা ও স্বাস্থ্য বিভাগকে একযোগে গুরুত্বের সাথে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কমকর্তা মো. আছাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ উল আলম, যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদ, সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস, গণপূর্ত যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ পরিচালক মঞ্জুরুল হক, কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়ল, যশোর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোকসিমুল বারী অপু প্রমুখ।
