চারু আদিত্য:
বই নিয়ে সময় কাটাতে চান? বইয়ের নান্দনিক রাজ্য ‘নির্বাচিত’ আপনাকে ডাকছে। কেনার পাশাপাশি সেখানে বসে বই পড়াও যায়। বুক শপটিতে শিশুদেরও অনেক বই পাওয়া যায়। সেখানে বসে তারা বই-ম্যাগাজিন পড়েও নিতে পারে। সেখানে জমে পাঠকদের বুক রিভিওয়ের আড্ডাও। বসে সাহিত্য আসরও।
শহরের বেশ নিভৃত কোন স্টেডিয়াম গ্যালারি মার্কেটে বই রাজ্য নির্বাচিত’র অবস্থান। গ্লাস ঘেরা বুকশপটির ভেতরকার নান্দনিক বিন্যাস নজর কাড়ে সবার। যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের আসাদ গেট থেকে একটু পশ্চিম গেলে ডান হাতে এই বইয়ের দোকানটি। সুদৃশ্য বুকশপটির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বইপ্রেমীদের চোখে আটকে যায়। আর আটকে গেলে তো একবার ঢু মারতেই হয়। তাই বইয়ের রাজ্যে পাঠকের আনাগোনা প্রথম দিন থেকেই। বই কিনতে এসে এখানটায় একে অন্যের সাথে গল্প জমে যায়। চলে শিল্প, সাহিত্য, ইতিহাস-দর্শনসহ জ্ঞানমুখী নানা আলাপচারিতা। নান্দনিক শৈলির এই বুক শপটির পরিবেশ এমনই
নির্বাচিত’র শেলফ ভর্তি নতুন সব বই। বুকশপ জুড়ে নতুন বইয়ের গন্ধ মন মাতায়। আছে সাহিত্য আড্ডারও পরিবেশ। নান্দনিক রুচিতে সাজানো বইয়ের ছোটখাট এক রাজ্যটি। তাক জুড়ে আছে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, অনুবাদ সাহিত্যের রকমারি সংগ্রহ। জ্ঞানমূলক ও সৃজনশীলসহ দেশি বিদেশি অন্যান্য বইপত্রেরও কমতি নেই। স্বনামধন্য প্রকাশনীর সেরা ও বাছাই করা সব বইয়ের সমাহার নিয়ে যশোরে তার যাত্রা। সুসজ্জিত ও দৃষ্টিনন্দন এই রাজ্যের উদ্যোক্তা দেশসেরা প্রকাশনী ‘ঐতিহ্য’। এখানে এসে পাঠক-ক্রেতা ঘুরে ফিরে বাছাই করে কিনতে পারেন তার পছন্দের বই।
‘নির্বাচিত’ বুকশপ থেকে বই খুঁজে দেখে কেনার পাশাপাশি অর্ডার করলেও হাতে পৌঁছে দেয়া হয়। বাংলা সাহিত্যের যশশ্বী সব লেখকের রচনাবলীর বড়সড় সংগ্রহে আছে। রবীন্দ্র, জীবনানন্দ, মানিক, বিভূতিভূষণ তো আছেনই। আছে নোবেল বিজয়ী লেখকদের অনুবাদ বইয়ের পাশাপাশি শিল্পের অন্যান্য শাখারও চমৎকার সব সংগ্রহ। ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শনের ওপর রকমারি গ্রন্থের সংগ্রহ ছাড়াও রয়েছে শিশুতোষ বইপুস্তক। বিশ্ব সাহিত্য, ক্লাসিক, অনুবাদ, সেরা লেখকদের বইয়ের ঠানবুনোট নির্বাচিত’র তাক জুড়ে! এছাড়া নতুন কোন বই আসলে সেটি পাঠকদের জানিয়ে দিতে প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক ওয়ালে ছবিসহ বইটির অন্যান্য তথ্য দিয়ে পোস্ট দেয়া হয়।
নির্বাচিত’র যশোর শাখা ব্যবস্থাপক শেখ জহিরুল ইসলাম জিতু জানান, যশোরে মানসম্মত বই না পাওয়ায় ক্রেতাদের ভেতর অনাগ্রহ রয়েছে। জেলা-উপজেলায় বইয়ের দোকান নেই বললেই চলে। যা-ও আছে, গাইড বই ও স্টেশনারিতেই তাদের মূল ফোকাস। এখন তাহলে প্রশ্ন হলো, পাঠযোগ্য বই পাবেন কোথায়? যদিও অনলাইন বিপণন প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে সেটির কিছুটা লাঘব হয়েছে। কিন্তু তা অপ্রতুল।
জিতু বলেন, এসব চিন্তা থেকে হাতের নাগালে বই পৌঁছে দিতে কাজ করছে নির্বাচিত। যেখানে কেনা-কাটায় বই হাতে নেয়া, বইয়ের গন্ধ পাওয়ায় শ্বাশত অনুভূতি পাবেন পাঠক। এমনকি অর্ডার করলেও থাকবে বই পাওয়া সুযোগ।