নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের অঙ্গীকার, সকল শিশুর সমান অধিকার’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যশোরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও কেক কাটাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। আনন্দ উৎসবের মধ্যে দিয়ে এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন ছোট শিশুসহ বৃদ্ধ সবাই। তারা শ্রদ্ধা জানান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান মহামানব শেখ মুজিবুর রহমানকে।
বৃহস্পতিবার সকালে শহরের বকুলতলা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর শিক্ষা বোর্ড, যশোর মেডিকেল কলেজ, জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি, যশোর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গনী খান পলাশ, যশোর সিভিল সার্জনের কার্যালয়, যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল, প্রেসক্লাব যশোর, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, যশোর জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, যশোর এমএম কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, বিএমএ যশোর শাখা, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ যশোর শাখা, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, জিলা স্কুল, যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ, শহর আওয়ামী লীগ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ, উপশহর মহিলা কলেজ, জেলা আইনজীবী সমিতি, আইইবি যশোর শাখা, জাতীয় মহিলা সংস্থা, সম্মিলনী ইনস্টিটিউশন, মুসলিম একাডেমি, বেসরকারি সংস্থা বাঁচতে শেখা, জাগরণী চক্রসহ বিভিন্ন সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে যশোর পূজা উদযাপন পরিষদ, আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, যশোর ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজ, যশোর জেলা যুবলীগ, যশোর জেলা ছাত্রলীগ, যশোর মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ, এমএম কলেজ ছাত্রলীগ, জেলা যুবমহিলা লীগ, জুম বাংলাদেশ যশোর শাখাসহ বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির উদ্যোগে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। আলোচনা সভা হয়েছে যশোর ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে।
অপরদিকে, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়। আনন্দ শোভাযাত্রাটি এসে শেষ হয় যবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে। এরপর বিশ^বিদ্যালয়ে স্থাপিত ক্ষণগণনার ঘড়ির সামনে জন্মদিনের গানের চিরায়ত সুরে জাতির পিতার ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১০২ পাউন্ডের কেক কাটা হয়। জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় যবিপ্রবির ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। বাদ জোহর বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসিজদে জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া-মোনাজাত করা হয়।
ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সকল কর্মসূচিতে যবিপ্রবির ডিনস কমিটির আহ্বায়ক ড. মেহেদী হাসান, ডিন অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গালিব, অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদ, অধ্যাপক ড. সাইবুর রহমান মোল্যা, ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ড. তানভীর ইসলাম, ড. সুমন চন্দ্র মোহন্ত, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আলম হোসেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. সেলিনা আক্তার ও ড. মো. আশরাফুজ্জামান জাহিদ, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এ টি এম কামরুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. হেলালুল ইসলাম, কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. শওকত ইসলাম সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক মো. বদিউজ্জামান বাদলসহ বিশ^বিদ্যালয়ের ডিনবৃন্দ, চেয়ারম্যানবৃন্দ, দপ্তর প্রধানবৃন্দ, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জাতির পিতার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যবিপ্রবির ছাত্রলীগ নেতা আফিকুর রহমান অয়ন, বিপ্লব দে শান্ত, শিলা আক্তার, সোহেল রানা, যবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মোসাব্বির হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসাইনসহ বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি ও অগ্রণী ব্যাংকের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ। সব মিলিয়ে জাতির পিতার জন্মবার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুখর ছিল যবিপ্রবি প্রাঙ্গণ।