নিজস্ব প্রতিবেদক
খাদ্য সংকট দূর করতে কৃষি বিভাগের সাথে জড়িত সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম। সাথে সাথে ভেজাল সার ও কীটনাশক নিয়ন্ত্রণে কঠোর ও কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলার মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।
এসময় জেলা প্রশাসক বলেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। কোনো ব্যবসায়ী বাড়তি মুনাফার আশায় যেন সারের কৃত্রিম সংকট তেরি করতে না পারে সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারি বাড়াতে হবে। এছাড়া এক জেলার সার ব্যবসায়ীরা যেন অন্য জেলায় নিয়ে বিক্রি না করে ও ভেজাল ওষুধ নিয়ন্ত্রণে জেলায় অবস্থিত ওষুধ কারখানাগুলো নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।
জেলা প্রশাসক সকলকে সতর্ক করে বলেন, ইদানিং দেশি বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ বিদেশি বলে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। পূর্বের মূল্যে ক্রয়কৃত বোতলজাত সয়াবিন তেল বাড়তি দামে বিক্রি করলে জরিমানার কথাও বলেন। জেলার সকল দপ্তরকে নিজ নিজ দায়িত্ব সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে আহ্বান জানান।
সভায় জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম শাহিনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম সিদ্দিকী, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হারুন আর রশিদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
সমন্বয় সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের নভেম্বর মাসের কর্মকান্ড ও চলমান কাজের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এসময় আলোচকরা বেশ কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে পৌর এলাকার ভিতরের রাস্তাগুলোর বেহাল দশা, রাতের বেলা চুরি ডাকাতির উপদ্রব্য, বাঘারপাড়া শার্শা ও ঝিকরগাছার মরা গাছ অপসারণ, বাড়তি বিদ্যুত বিল কমানো, কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, মডেল মসজিদ নির্মাণ, বেনাপোলের ওজন স্কেল চালুসহ বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
জেলার সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, এবছর ইপিআই টিকা দানের লক্ষ্যমাত্রা ৫৬১৯ নির্ধারণ করা হয়েছিলো। লক্ষ্যমাত্রার ২৯৩২ অর্জন করে দেশ সেরা হয়েছে যশোর জেলা। ডেঙ্গু পরি¯িথতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। সর্ব সাধারণের সেবার কথা চিন্তা করে হাসপাতাল এলাকায় সর্বক্ষণ ওষুধের ফার্মেসি খোলা রাখতে বলেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম সিদ্দিকি বলেন, রাতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ ৩২ টি জায়গায় পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গভীর রাতে ডাকাতি এড়াতে একটা চেক পোস্ট থেকে অন্য চেক পোস্ট পর্যন্ত প্রত্যেকটা গাড়ি ওয়াকিবহলে রাখা হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিহতে পুলিশের সাইবার টিক কাজ করে যাচ্ছে। ইংরেজি নববর্ষ ঘিরে অপরাধ দমনে পুলিশ তৎপর।
জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রাধীন সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড চলমান রয়েছে। ঝূঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণ করা হচ্ছে। যশোর-নড়াইল সড়কের ৬০ শতাংশ গাছ কর্তন করা হয়েছে। আদালতের নিষেধ অমান্য করে যারা কাজ কর্তন করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
