নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামীর উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে শিশুদের প্রস্তুত করে তোলার আহবান জানিয়েছেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের ভালোবাসতেন। বঙ্গবন্ধু জানতেন এবং বলতেন শিশুরা আগামীর ভবিষ্যৎ। শিশুর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে সুপ্ত প্রতিভা। তাইতো ১৯৭৪ সালেই বঙ্গবন্ধু শিশু আইন প্রণয়ন করেন। সব শিশুর সমান অধিকার নিশ্চিতকরণে তারই সুযোগ্য তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে কাজ করছেন। বঙ্গবন্ধুর মতো তিনিও শিশুদের দিকে তাকিয়ে আছেন। এই লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনকে এ সরকার জাতীয় শিশু দিবস ঘোষণা করেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর মুন্সি মেহেরুল্লাহ ময়দানে আয়োজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিবিসির জরিপে নেতাজী সুভাস বসু ও বিশ^কবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামও ছিল। কিন্তু শ্রেষ্ঠ বাঙালির মর্যাদা বঙ্গবন্ধু পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। এই মর্যাদা ধরে রেখে আগামী দিনে বাংলাদেশকে উন্নত ও সম্মৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আজকের শিশুরাই কাক্সিক্ষত সেই উন্নত দেশের নেতৃত্ব দেবে। সেকারণেই স্ব-স্ব অবস্থান থেকে শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সবার ভূমিকা রাখতে হবে। এই হোক আজ শিশু সমাবেশের দৃঢ় অঙ্গীকার।
যশোর পুলিশ লাইনস স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আজিতা আজরিনের সভাপতিত্বে আলোচনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অথৈ মিত্র। উপস্থাপনায় ছিল শিশু শিক্ষার্থী সৌভিক দাস ও সামিয়া ইমরানা দিশা।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বলেন, বঙ্গবন্ধুর মন ছিল শিশুর মতো উদার। তিনি দেশের শিশুদের অনুষ্ঠানে গেলে শিশুদের মাঝে মিশে যেতেন। বঙ্গবন্ধু বাঙালির কৃষ্টি কালচার ধারণ ও লালন করতেন। তিনি স্বপ্ন দেখতে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। তাঁর প্রতিটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় যশোর পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গনী খান পলাশ বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে শিশুদের সকল প্রকার নির্যাতন ও সহিংসতা সম্মিলিতভাবে রুখতে হবে।
সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনির বঙ্গবন্ধুর জীবনীর ওপর দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভার আগে ১০২ জন শিশু শিল্পীর কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান পরিবেশিত হয়। সভা শেষে ফের শুরু হয় স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এদিকে শিশু সমাবেশ ঘিরে ঢল নামে শিশু ও অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের সরব উপস্থিতিতে শিশু সমাবেশ রূপ নেয় মিলন মেলায়।
বঙ্গবন্ধুর ১০২তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের অনুষ্ঠানকে সাফল্য মন্ডিত করে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের ৪১টি প্রতিষ্ঠান স্টল বসানো হয়েছে।
যশোর জেলা প্রশাসন আয়োজিত এই মেলা চলবে ২৩ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিনই থাকবে আলোচনা সভা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে শহরের বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আনন্দ শোভাযাত্রা, কেক কাটাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়। শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ম্যুরালে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি, যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গনি খান পলাশ, প্রেসক্লাব যশোর, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন, যশোর জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস ও সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু প্রমুখ।
শ্রদ্ধা শেষে জেলা পরিষদের উদ্যোগে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ১০২ পাউন্ডের কেক কাটা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ-উজ জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল খালেক, শহিদুল ইসলাম মিলন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানজিব নওশাদ পল্লব, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের একান্ত সহকারী এজাজ উদ্দিন প্রমুখ।
এদিকে, যশোর আইইবি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) যশোর শাখার আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বেঞ্জুর রহমান, প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, প্রকৌশলী আনিছুজ্জামান, প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম প্রমুখ।