নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামে সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। মধুসূদন সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের কাছে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে তাদের নামে ইতিমধ্যে সরকার বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা ধরণের স্থাপনা নির্মাণ করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বেগম রোকেয়ার মত কবি লেখকদের নামে দেশে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলেও বাংলার মাটিতে জš§ নেওয়া মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের নামে কোন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়নি।
বাংলা সাহিত্যের প্রথম আধুনিক কবি মধুসূদনের নামে অনেক আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বিদ্যাপীঠ স্থাপন করা উচিৎ ছিলো।
আমরা মনে করি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, বাঙালি সংস্কৃতি-কৃষ্টিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে তুলে ধরার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ আরো জোরালো ও সম্প্রসারিত হতে পারে সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। মহাকবির জন্মভিটা কেশবপুরের সাগরদাঁড়িতে মধুসূদন সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি যশোরবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
হাজার হাজার পর্যটকের তীর্থভূমি সাগরদাঁড়িতে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান ও বাঙালি সংস্কৃতির গবেষণার মাধ্যমে এই মহাকবির প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।
এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি গত ১০ বছর ধরে উচ্চারিত হয়ে আসছে। আগামী ২৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোর শামসুল হুদা স্টেডিয়ামে জনসভায় ভাষণ দিবেন। প্রধানমন্ত্রীর যশোরে আগমন উপলক্ষে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। সেই সঙ্গে যশোরের সমস্যা ও সম্ভাবনা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরারও চেষ্টা করছেন এখানকার বাসিন্দারা।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক হারুন অর রশীদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিকী, সহকারী সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম, জয়তী সোসাইটির পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান,
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখার সভাপতি দীপংকর দাস, রাজনীতিক জিল্লুর রহমান, মফিজুর রহমান, সাংবাদিক সাজেদ রহমান, ইন্দ্রজিৎ রায়, দীলিপ মোদক ও জাহিদ হাসান, শিক্ষক স্বপন মন্ডল, শুভাশীষ মজুমদার এবং রঞ্জিত কুমার ঘোষ, ব্যবসায়ী আনন্দ চৌধুরী প্রমুখ।