নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের পালবাড়ি এলাকায় অবস্থিত গ্রিন লাইফ সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রাইভেট কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে পাঁচ নারী কর্মীর যৌন হয়রানির অভিযোগ করা হয়েছে। হয়রানির শিকার পাঁচ নারী কর্মী স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি সোমবার সকালে যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের কাছে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে তিনদিন আগে গত ১২ মে ওই নারীরা যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছেও একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ বিষয়টি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেনি।
অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, যশোর শহরের পালবাড়ি এলাকায় অবস্থিত গ্রিন লাইফ সিকিউরিটি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড নামের ওই প্রতিষ্ঠানে ওই পাঁচ নারী কর্মীকে মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে বিভিন্ন সময়ে চাকরি দেওয়া হয়। জমানত হিসেবে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ হাজার ১৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। দুই থেকে তিন মাস চাকরির বয়স হলেও কেউ এক মাসেরও পুরো বেতন পাননি। বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভির হাসান ও ব্যবস্থাপক জাহিনুর রহমান মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের ফুসলাতেন। কুপ্রস্তাব দিতেন। যৌন হয়রানি ও ভিডিও করতেন। এসব কারণে আমরা আর চাকরি করতে রাজি হয়নি। আমাদের দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। জামানতের টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। বেতন ও জামানতের টাকা ফেরত চাইলে গেলে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে উল্টো আমাদের নামে বদনাম ছড়ানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী কর্মী বলেন, ‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভির হাসানের মোটরসাইকেলের পিছনে প্রায় বসতে বলতেন। তার সঙ্গে সময় কাটাতে বলতেন। একদিন তার মোটর সাইকেলে করে ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে নিয়ে যান। মাঝপথে গিয়ে তার এক বন্ধুর বাসায় থাকার প্রস্তাব দেন। আমি রাজি হয়নি। চিৎকার দিয়ে মাঝপথে নেমে যাই।’
তিনি বলেন, ‘এরপর আমি আর চাকরি করতে চাইনি। মুঠোফোনে জামানতের টাকা ফেরত চাইলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন ব্যবস্থাপক জাহিনুর রহমান।’
আমি একটি বেসরকারি কলেজে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কোর্সে অধ্যায়ন করছি দাবি করে ওই তরুণী বলেন, অনেক কষ্ট করে জামানতের ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু আমার টাকা তারা ফেরত দিতে রাজি হচ্ছে না।’
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভির হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের চাকরির তো একটা সিস্টেম আছে। চুক্তি অনুযায়ি এক বছরের আগে কেউ চাকরি ছাড়লে জামানতের টাকা ফেরত পাবে না। যে মেয়েগুলো চাকরি ছেড়ে দিয়েছে তাদের কেউ ভালো না। এখন তারা যৌন হয়রানির অভিযোগ করছে। যা একেবারেই সত্য না।’
ওই নারী কর্মীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোম্পানির নারী কর্মীরা লিখিত একটি অভিযোগ দিয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক নারী কর্মীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের চুক্তিপত্র থেকে জানা গেছে, ‘কোম্পানিতে জুনিয়র অফিসার হিসেবে যোগদান করলাম। সাড়ে আট হাজার টাকা জমানত হিসেবে রাখলাম। কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ি প্রতি মাসে সাতজন জনবল সংগ্রহ করে দিতে হবে। জনবল নিয়োগ অনুযায়ি কেম্পানি আমাকে বেতন দিবে।’
প্রতিষ্ঠানের কাজ কি জানতে চাইলে ওই নারী কর্মীরা বলেন, কোনো কাজ কখনো করতে দেয়নি। শুধু লোক নিয়োগ করতে বলা হতো। নিয়োগকৃত কর্মীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে জামানত রাখা হয়। এটাই কোম্পানির মূল ব্যবসা। কারো কোনো কাজ করতে দেওয়া হয় না। এরমধ্যে ১০ থেকে ১৫ দিন বিনা বেতনে ট্রেনিং হিসেবে দেখানো হয়।
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভির হাসান বলেন, ‘ঢাকা ও খুলনার বিভিন্ন কোম্পানিতে সিকিউরিটি গার্ড (নিরাপত্তা কর্মী) সরবরাহ করা আমাদের মূল কাজ।’ যশোর শহরে এই প্রতিষ্ঠান ছয় মাস চালু হয়েছে বলে তিনি জানান।
ঢাকা বা খুলনার যেসব প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা কর্মী সরবরাহ করেছেন সেই সব প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকানা জানতে চাইলে তানভির হাসান তা জানাতে পারেননি। অভিযুক্ত তানভির হাসানের বাড়ি যশোরের অভয়নগর উপজেলায়।
