শাহারুল ইসলাম ফারদিন: যশোরে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী গণটিকা কার্যক্রম। সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। গতকাল সকাল ৮টা থেকে যশোর ঈদগাহ মাঠে টিকার কার্যক্রম শুরু হয়ে বিকেল চারটা পর্যন্ত প্রথমদিনের মতো টিকা কার্যক্রম চলে। প্রথম দিনে ২১১৬ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ১হাজার ১১১ জন এবং নারী ১হাজার ৫ জন পুরুষকে সিনোফার্মের প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমে দুই দিনে ১০ হাজার জনকে টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত লোক এলেও দেয়া হবে। এখানে টিকা নেয়ার জন্য লাগবে না অনলাইন রেজিস্ট্রেশন। যশোরে বসবাস করেন এমন সনদ থাকলেই টিকা নিতে পারছেন সবাই।
সিভিল সার্জন বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, যশোরের বাসিন্দা যারা পূর্বে টিকা নেননি তাদেরকে টিকার আওতায় আনতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন আবশ্যক নয়। শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেই টিকা নেয়া যাবে। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে চেয়ারম্যান অথবা কাউন্সিলের নাগরিক সনদপত্র দেখালেই টিকা পাওয়া যাবে। মানুষের আগ্রহ বাড়াতে গণটিকা কার্যক্রম সহজ করে দেয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য যশোরে শতভাগ মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত টিকা আছে। যারা টিকা নিতে চাইবে সবাইকে টিকা দেয়া হবে। এই দুই দিনে ১০ হাজার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এর বেশি যারা আসবে সবাইকে টিকা দেয়া হবে।
যশোর ঈদগাহ মাঠে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেয়া হচ্ছে টিকা। যার জন্য সেখানে পাঁচটি বুথ করা হয়েছে। প্রতিটি বুথে ৫ জন করে দায়িত্ব পালন করছেন। এদের মধ্যে দুইজন নার্স ও তিনজন করে স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন।
যদিও সকাল আটটায় যশোর পৌরসভার ৬ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও পরবর্তীতে টিকা কার্যক্রম ঠিক রাখতে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ৪জন ও রেডক্রিসেন্ট থেকে আরেও ২ জন যুক্ত হয়। তারপরও দুপুর অবদি মানুষকে টিকা দিতে গিয়ে হিমসিম খেতে হয়েছেন বলে জানান যশোর পৌরসভার কর্মকর্তা চন্দন কুমার বিশ্বাস।
সিভিল সার্জন অফিস জানায়, যশোরে এ পর্যন্ত ৩২ লাখ ২২ হাজার ৬১২ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ডোজ ১৯ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৯ জন, দ্বিতীয় ডেজ ১২ লাখ ৪৪ হাজার ৯৯ জন ও তৃতীয় ডোজ নিয়েছেন ২৯ হাজার চারজন।