নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সারাদেশের মতো যশোরেও জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ দশমিক ৪৩ ভাগ শিশু ক্যাম্পেইনের আওতায় এসেছে। এবারও ৬-১১ মাসের শিশুকে ১টি করে নীল রঙের এবং ১২-৫৯ মাসের শিশুকে ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। গতকাল সকাল নয়টা থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্পেইন বিরতিহীনভাবে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে। ক্যাম্পেইন চলাকালে শিশুকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে পুষ্টিবার্তা প্রচার করে।
সোমবার সকালে শিশু হাসপাতালে শিশুদেরকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয়। জেলা সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাসের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। এসময় আগত শিশুদেরকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং আগত শিশুদের মা, বাবা ও অভিভাবকদেরকে পুষ্টিকর খাদ্যাভাস ও শিশুর যতেœ করণীয় বিষয়ে মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করা হয়।
জেলার আটটি উপজেলা ও পৌরসভায় মোট ৩ লক্ষ ২ হাজার ৭৮২ জন শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। এরমধ্যে ৬-১১ মাসের ৩৫হাজার ৩১৫ জন ও ১২-৫৯ মাসের ২ লক্ষ ৬৭হাজার ৪৬৭ জন শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। জেলা সিভিল সার্জন অফিস তথ্য মতে, অভয়নগরে ২৭ হাজার ৭৪৪ জন শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। এরমধ্যে ৬-১১ মাসের ৩ হাজার ২৮৩জন ও ১২-৫৯ মাসের ২৪ হাজার ৪৬১ জন শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। বাঘারপাড়ায় মোট ২৬ হাজার ৩৭৪ শিশুর মধ্যে ৬-১১ মাসের ৩ হাজার ২১৯ জন ও ১২-৫৯ মাসের ২৩ হাজার ১৫৫ জন শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। এছাড়া চৌগাছায় ২৪ হাজার ৪৮৪ জন শিশু, ঝিকরগাছায় ৩৪ হাজার ৭৭৫ জন শিশু, কেশবপুরে ২৭ হাজার ২৭২ জন শিশু, মণিরামপুরে ৫০ হাজার ২৩৭ শিশু, শার্শায় ৪৩হাজার ১৫৭ শিশু, সদরে ৪০ হাজার ৩০৩ শিশু ও পৌরসভায় ৩২ হাজার ৪৩৮ শিশুকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। এই ক্যাপসুলে শিশুর অন্ধত্ব রোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও শিশুর দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক, সদর উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মীর আবু মাউদ প্রমুখ।
