শাহারুল ফারদিন: পৌষের শুরু থেকেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করায় যশোরে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এর সাথে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত যুক্ত হয়েছে ঘনকুয়াশা। ঘর থেকে বের হলেই কনকনে বাতাস যেন শরীরে আঁচড় কাটছে। বেলা বাড়ার পরে সূর্যের দেখা মিললেও তাতে তাপ নেই।
শীতের সঙ্গে যশোরের হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিশুরা। শীত বাড়ায় যশোরের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে শিশু ও নবজাতক রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। যশোর ২৫০ শয্য বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে শুধু জ¦র, ঠান্ডা, ডায়রিয়া ও শ^াসকষ্টজনিত রোগী প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছেন শতাধিক।
গত একসপ্তাহে হাসপাতালে শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন পাঁচশত ৮৭জন শিশু রোগী। সোমবার বিকেলেই শিশু ওয়র্ডে ভর্তি হয়েছে ২৫জন শিশু। এদের মধ্যে অধিকাংশই জ¦র, ঠান্ডা, ডায়রিয়া ও শ^াসকষ্টজনিত রোগী। ঠাণ্ডাজনিত সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত শিশুদের মা-বাবা চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে ছুটে আসলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অধিকাংশ অভিভাবক তাদের শিশুদের বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করছেন। অনেকে আবার বাধ্য হয়ে সরকারি হাসপাতালে শিশুকে ভর্তি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভর্তি হওয়া এবং বহির্বিভাগের সেবা নেয়া শিশুদের ৭৫ ভাগই ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি ১৩ জনের মধ্যে ১০ জনই শিশু রোগী ভর্তি। এদিকে শিশু ওয়ার্ডে ২৭টি শয্যা আছে। যার বিপরীতে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছে ৫৯ শিশু। আবার শিশুদের শ^াসকষ্টজনিত ও নিউমোনিয়া রোগে ব্যবহৃত নেবুলাইজার মেশিন মাত্র একটি। একটি মেশিন থাকায় সব সময় সিরিয়াল থাকছে সেখানে। তবে মেশিন বাড়ানো হলে সিরিয়াল জটিলতা কমবে বলে জানান কর্তব্যরত সিনিয়র নার্স নাসরিন সুলতানাসহ একাধিক সেবিকা।
সোমবার সকালে হাসপাতালে জ¦র-ঠাণ্ডায় আক্রান্ত মাগুরার সীমাখালীর পিয়ারপুর গ্রাম থেকে এগারো মাস বয়সী জিমিকে নিয়ে আসেন মা শোভা বেগম। তিনি জানান, গত কয়েকদিনের ঠাণ্ডা-জ্বরে আক্রান্ত হয়। এখন তার চিকিৎসা চলছে। একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা খাজুরা যাদবপুরের কেয়া খাতুন (২২) বলেন, ঠাণ্ডায় আমার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেছে।
তাই চিকিৎসা নিতে এসেছি। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সদরের রামকৃষ্ণপুরের চার মাস বয়সী শিশু যুবায়েরের মা সেলিনা বেগম, সদরের মাহিদিয়ার ১৩ মাস বয়সী আলিফার মা ফারজানা ইয়াসমিন, খাজুরার পারবর্তীপুরের রাফিয়ানের মা হামিদা বেগম বলেন, তাদের শিশুরা জ¦র, ঠান্ডা, ডায়রিয়া ও শ^াসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত। গত কয়েকদিন বিভিন্ন ডাক্তারকে দেখিয়েছি। কোন উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। তবে হাসপাতালে নেবুলাইজার মেশিন মাত্র একটি। ওষুধ দিতে গেলে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসক জসীম উদ্দিন জানান, শীতে ভাইরাসজনিত রোগে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এভাবে শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকলে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যাও বাড়বে। শিশুর দিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং বাসায় সব সময় তাকে কাপড় দিয়ে জড়িয়ে রাখতে হবে। শিশু কোনো অবস্থায় যেন ভেজা না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ইমদাদুল হক রাজ জানান, শীতে ঠান্ডাজনিত রোগবালাই বেশি দেখা দেয়। বিশেষ করে কাশি, অ্যাজমা, জ্বর, অ্যালার্জি ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় শিশুরা। এ সময়ে বাতাসে ধূলাবালি বেশি থাকায় অনেকের অ্যালার্জি এবং শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এসব রোগ-বালাই থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় সচেতনতা ও সাবধানে থাকা।
