নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে ১০ শিক্ষার্থীর শিক্ষাবৃত্তি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ড্রাইভার হায়াতুর রহমান সুজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠে।
ভুক্তভোগীরা বাঘারপাড়া উপজেলার সরকারি শহীদ সিরাউদ্দিন হোসেন মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এদিকে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষাবৃত্তির টাকা না পাওয়াতে জেলা পরিষদ চত্বরে হট্টগোল করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনেছি। এখানে জেলা পরিষদের কেউ জড়িত নয়। অভিযুক্ত ড্রাইভারকে নির্দেশ দিয়েছি কাল (আজ) শিক্ষার্থীথের বৃত্তির অর্থ বাড়িতে পৌছে দিতে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘গত ডিসেম্বরে জেলা পরিষদ মেধাবী দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের আহ্বান করে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই করে মঙ্গলবার সেই সব শিক্ষার্থীর শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। জেলা পরিষদের সভাকক্ষে সাইফুজ্জামান পিকুল বাঘারপাড়া উপজেলা শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করেন। সরকারি শিক্ষাবৃত্তি হিসাবে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। নিয়ম অনুয়ায়ী বাঘারপাড়া উপজেলার সরকারি শহীদ সিরাউদ্দিন হোসেন মহাবিদ্যালয়ের ১০ শিক্ষার্থীর পাঁচ হাজার টাকা দেয়া হলেও সভাকক্ষের বাইরে এসব শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ড্রাইভার হায়াতুর রহমান সুজনের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নিয়ে নেন।
কলেজের পারভেজ হোসেন রনি জানান, ‘জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার পর আমরা যখন বের হয়ে যায়, তখনই হায়াতুর রহমান সুজন তাদের পিছন থেকে ডাক দেন। সবাইকে জানান, তোমাদের টাকা থেকে চেয়ারম্যান মহোদয়কে তিন হাজার টাকা করে দিতে হবে। তাদের ভাষ্যমতে ১০জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ড্রাইভার মোট ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন। পরে নিচে এসে শুনি এই টাকা চেয়ারম্যান নেয়নি; নিয়েছে চেয়ারম্যানের ড্রাইভার। পরে চেয়ারম্যানকে অবহিত করলে তিনি আশ^াস দেন এই শিক্ষাবৃত্তির টাকা সব তোমরা পাবা। রুবায়েত হোসেন রনি বলেন, ‘আমরা কৃষকের সন্তান। আমাদের টাকা মেরে কি লাভ। আমাদের টাকা দ্রুত ফেরত চাই। একই সাথে এই প্রতারক ড্রাইভারকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
