নিজস্ব প্রতিবেদেক
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে যশোর শহরে অবৈধ ইঞ্জিন ভ্যান-রিক্সা ও ইজিবাইক চলতে দেবেনা প্রশাসন। একইসাথে যে কোনো মূল্যে মণিহার এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ আনা হবে। যশোর শহরকে যানজটমুক্ত করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভায়। রোববার যশোর কালেক্টরেট ভবনের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসাইন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোছা. খালেদা খাতুন রেখা, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদাত রাসেল, ৪৯ বিজিবির সহকারী পরিচালক মেজর মো. সেলিমুজ্জামান, র্যাব-৬ এর যশোর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. সাকিব হোসেন, পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গণি খান পলাশ, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলাম মিলন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা ফরিদ আহম্মেদ চৌধুরী, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ।
সার্বিক আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাদক, চোরাচালান, যৌতুক ও বাল্য বিবাহ রোধসহ বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়
সভায় বলা হয় শহরে অবৈধ ইঞ্জিন চালিত ভ্যান-রিক্সা ও ইজিবাইকের কারণে যানজট লেগে থাকছে। এতে মানুষেল ভোগান্তি বেড়েছে। এজন্য শহরে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ইঞ্জিন চালিত ভ্যান-রিক্সা শহরে প্রবেশ করতে না দেয়া, নিবন্ধনবিহীন ইজিবাইক শহরের অভ্যন্তরে না চলতে দেয়া, সড়কের দুপাশের অবৈধ স্থাপনায় থাকা দোকানের মালামাল ক্রোকসহ নানাবিধ বিষয় আলোচিত হয়।
পৌর মেয়র জানান, শহরে নিবন্ধিত সাড়ে চার হাজার ইজিবাইক থাকলেও ১৫ হাজারের বেশি ইজিবাইক চলাচল করছে। বিভিন্ন গ্রাম ও লোকাল এরিয়া থেকে ইজিবাইক শহরে ঢোকে এবং তাদের চলাচলের কারণে শহরে ইজিবাইক জট বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এগুলি অভিযান চালিয়ে বন্ধ করা উচিত। পরে সিদ্ধান্ত হয় আগামী ১৫ তারিখের পর থেকে শহরে ইঞ্জিন ভ্যান-রিক্সা চলবে না, অভিযান চালিয়ে বন্ধ করা হবে। এটি বাস্তবায়নের জন্যে পৌরসভা মাইকিং করে সতর্ক করবে। তাছাড়া শহরের চৌরাস্তা থেকে আশ্রম মোড় পর্যন্ত সড়কটিকে মডেল সড়কে রূপান্তরিত করা হবে। সেখানে হর্ণ বাজানো নিষেধ থাকবে, যানজট করা যাবে না। একইভাবে যে কোনো মূল্যে মণিহার এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ আনা হবে। এ জন্যে চলতি মাসেই সড়ক পরিবহন, শ্রমিক ইউনিয়ন, বাসমালিক সমিতি, ইজিবাইক চালকদের সংগঠন, থ্রিহুইলার চালকদের সংগঠন ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে সভা করবে জেলা প্রশাসন।
সভায় প্রস্তাব হয় নিবন্ধনযুক্ত ইজিবাইকের নির্দিষ্ট রং থাকতে হবে, সে বাইকের চালকদের গায়ে পৌরসভার দেয়া নির্দিষ্ট রঙের পোশাক থাকতে হবে এবং পুলিশি অভিযান জোরদার করতে হবে। শহরের মধ্যে পায়ে চলা (প্যাডেল) রিক্সা-ভ্যান চলাচল করতে পারবে। রাস্তার জায়গা রাস্তায় রাখতে ১৫ তারিখের পর থেকে পৌরসভা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে রাস্তার উপর রাখা মালামাল সরকারি মালামাল হিসেবে জব্দ করবে। সার্বিক আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় চলতি মাসেই মণিহার এলাকা দখলমুক্ত ও যানজটমুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করা হবে এরপর প্রয়েজনে অভিযান পরিচালিত হবে।
এছাড়া সভায় সার্বিক আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাদক, চোরাচালান, যৌতুক ও বাল্য বিবাহ রোধসহ বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।
