শাহারুল ইসলাম ফারদিন
পৌষের শুরু থেকেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। এতে যশোরে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এর সাথে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত পড়ছে ঘনকুয়াশা। সূর্যের দেখা মিললেও দুপুরে ছাড়া সেভাবে তাপ অনুভূত হচ্ছে না।
এদিকে, শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলছে। যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালে জ¦র, ঠান্ডা, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হচ্ছেন প্রায় শতাধিক মানুষ। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি বাড়ছে। এ সময়ে শিশুরা শীতকালীন রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলে তাদের প্রতি বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
গত একসপ্তাহে হাসপাতালে শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন ৫১২ জন। এদের মধ্যে অধিকাংশই জ¦র, ঠান্ডা, ডায়রিয়া ও স্বাসকষ্টজনিত রোগী। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি ১১ জনের মধ্যে পাঁচজন শিশু রোগী রয়েছে। এদিকে শিশু ওয়ার্ডে ২৬টি শয্যা আছে। যার বিপরীতে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছে ৪৯ শিশু।
হাসপাতালে নয় মাস বয়সী আরজুর মা রাখি বেগম জানান, গত কয়েকদিনের ঠান্ডায় আরজু জ্বরে আক্রান্ত হয়। এখন তার চিকিৎসা চলছে। একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সদরের আরবপুরের রমজান আলী (৬২) বলেন, ঠান্ডায় আমার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেছে। তাই চিকিৎসা নিতে এসেছি। এখন প্রচুর শীত। এ জন্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সবাই।
হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, শীতকালীন রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা এখন অনেক বেশি। তিনি জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস এবং শীতকালীন ডায়রিয়ার বিরুদ্ধে সতর্কতার আহ্বান জানান। এ ঋতুতে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য তিনি আরোও বলেন, শিশুকে সুস্থ রাখতে শীতের কাপড় পরাতে হবে, মাথা ঢেকে রাখতে হবে, শিশুর মাথায় ঠান্ডা লাগানো যাবে না এবং বাড়ির বাইরে শিশুদের নিয়ে অহেতুক ঘোরাঘুরি করা যাবে না। ছয় মাসের কম বয়সি শিশুদের ঘন ঘন স্তন্যপান করানো ও বেশি বয়সীদের মৌসুমি সবজি, ফল খাওয়ানোর পরামর্শ দেন এ বিশেষজ্ঞ।
শিশুদের পাশাপাশি বয়স্করাও শীতকালীন রোগে আক্রান্ত হওয়ার বড় ঝুঁকিতে রয়েছেন। হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. গৌতম কুমার আচার্য্য বলেন, শীতের শুরু থেকেই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে গত এক সপ্তাহ ধরে এমন রোগীর চাপ বেশি এবং এতে শিশু ও বৃদ্ধরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শিশুদের ক্ষেত্রে শ্বাসতন্ত্রের তীব্র সংক্রমণ, নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের হার বেশি। এছাড়া বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত সমস্যা বেড়েছে। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়া এড়াতে বাড়িতে শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার ওপর জোর দেন এ চিকিৎসক।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. পার্থ প্রতিম চক্রবর্ত্তী বলেন, হাসপাতালের সাধারণ সর্দি-কাশি নিয়ে শিশুরা ভর্তি রয়েছে। তবে বয়স্ক কিছু ব্যক্তি ভর্তি রয়েছেন শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির সমস্যা নিয়ে। বর্তমানে ভর্তি থাকা মোট ছয় শতাধিক রোগীর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুসহ একশ জন আছে শীতজনিত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে। মাঝখানে স্যালাইনের সংকট থাকলেও এখন আর কোনো সংকট নেই। ভর্তি রোগী বাড়লে তাদের জন্য বারান্দায় জায়গা করে দিয়েও চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব, জানান এ চিকিৎসক।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, গত বছরের এ সময়ের তুলনায় এবার হাসপাতালে শীতকালীন রোগীর চাপ কিছুটা কম।
