কল্যাণ রিপোর্ট ।। দেশে যেন পরাজিত শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক বলেছেন, যারা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে স্বীকার করেনা তারা মোনাফেক।
তিনি বলেন, জয় বাংলা কোন দলীয় স্লোগান নয়। এটা ছিল আমাদের রণধ্বণি। এই স্লোগান দিয়ে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। যশোর হানাদার মুক্ত দিবসে বলে যেতে চাই জয় বাংলা স্লোগান আওয়ামী লীগের বাপ দাদার সম্পত্তি না, এটা যারা স্বাধীনতাকে বিশ^াস করে, যাদের স্বাধীনতার প্রতি আস্থা আছে তাদের প্রাণের ধ্বনি, অন্তরের ধ্বনি। কিন্তুএকটি রাজনৈতিক দল দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। তারা সৎ লোকের শাসনের নামে দেশে লুটপাট চালিয়েছে। তারা আজ মুক্তিযোদ্ধাদের এই রণধ্বণিকেও বিতর্কিত করে আওয়ামী লীগের স্লোগান বলে মন্তব্য করতে দ্বিধাবোধ করছে না। গত সোমবার যশোর হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আঞ্চলিক মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
যশোর বিডি হলে যশোর জেলা প্রশাসনের সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সমাবেশের আয়োজন করে। যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ‘বিজয়ের পথে পথে’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত মহা সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য এমপি, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, নাহিদ এজাহার খান এমপি ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রলায়ৈর সচিব খাজা মিয়া। বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হুদার সহধর্মিনী নীল আফরোজ বানু, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, বীর মুক্তিযোদ্ধ রাজেক আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাজহারুল ইসলাম মন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম খয়রাত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রবিউল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি প্রমুখ।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, বাঙালি জাতি তাদের জাতিসত্তা, আর্থ সামাজিক, সাংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধে নেমেছিল। তাদের জীবন, আত্মত্যাগ ও ৯ মাসের পরিশ্রমে বাঙালি পেয়েছে স্বাধীন মাতৃভূমি। বিজয়ের প্রথম স্বাদ পেয়েছিল এই যশোর। সরকার এই যশোরকে প্রাধান্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন বর্তমান সরকারের উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। সকল যুদ্ধক্ষেত্র, বধ্যভূমিসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মুক্ত যশোরের প্রথম জনসভাস্থল যশোর টাউন হল ময়দান ও মঞ্চ সংরক্ষণে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
সব শেষে মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষে উপহার তুলে দেন। শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে মন্ত্রী শহরের লোন অফিসপাড়ায় যশোর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের উদ্বোধন করেন। এপরপর দুপুরে শহীদ কর্নেল নাজমুল হুদা বীরবিক্রম সড়কের উদ্বোধন করেন।