ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ঝিনাইদহে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের জেলা কার্যালয় অবমুক্ত করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জেলা শিল্পকলা একাডেমির পেছনে অবস্থিত কার্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হন স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মীরা। তারা প্রথমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে “কার্যালয় অবমুক্ত” লেখা একটি ব্যানার টাঙিয়ে দলীয় স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় উপস্থিত কর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
পৌর যুবলীগের সদস্য সোহেল রানা বলেন, দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। তার দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কার্যালয়টি বন্ধ করে রাখেন। সোমবার রাতে নেতাকর্মীরা সম্মিলিতভাবে কার্যালয়টি পুনরায় উন্মুক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, “এটি আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমের কেন্দ্র। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি সামছুল আরেফিনের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়াও জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সে সময় কার্যালয়ে থাকা এসি, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র লুট করা হয়। পরবর্তীতে দরজা-জানালাও খুলে নেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
কার্যালয় অবমুক্তের ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সম্ভাব্য রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা মিলবে।
