গণমাধ্যামে খবর প্রকাশ হয়েছে, যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর গ্রামে পিতা-মাতাকে মারপিট ও টাকা চুরির অভিযোগে ছেলে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন মা। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক পলাশ কুমার দালাল অভিযোগটি গ্রহণ করে ছেলের প্রতি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। ২৭ ডিসেম্বর নিজামপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী মরিয়ম বেগম মামলাটি করেছেন। গত ১০ ডিসেম্বর শহিদুল তার মায়ের ঘরে ঢুকে খুন জখমের হুমকি দিয়ে এক লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যায়। এ সময় মরিয়ম বেগম ও শহিদুলের স্ত্রী বাধা দিলে শহিদুল তাদের মারপিট করে। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।
সন্তানের কাছে মা কত বড় বোঝা হয়েছে যে সেই মাকে ছেলে হত্যার হুমকি দিয়ে টাকা পয়সা লুট করতে পারে। এ কথাটা শোনাও বোধ হয় পাপ। অনুভুতিপ্রবণ মানুষ এ ঘটনায় প্রতিবাদমুখর না হয়ে পারে না। কোন বিবেকে কোন মানসিকতায় ছেলে মাকে এভাবে হত্যার হুমকি দিয়ে টাকা লুট করতে পাওে তা ভেবে পাওয়া কঠিন।
কিছুদিন আগে চৌগাছায় বিত্তবান ছেলেদের মাকে বাঁশ বাগানের এদো খানার পাশের একটি ঘর নামের ঝুপড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। কিন্তু অদূরে সন্তানরা থাকে ফ্লাটবাড়িতে। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার খাজুরিয়া গ্রামের ৮৫ বছরের এক মাকে তার ছেলেরা তাদের দোতলা বাড়িতে না দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। বৃদ্ধা রশি বেগম আশ্রয় নেন অন্যের জায়গায়, ঝুপড়ি ঘরে। শেষ বয়সে নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন ওই মা। জানিনে তিনি আজো বেঁচে আছেন কি না। নড়াইলে ছেলেরা তাদের মাকে ফেলে দিয়ে এসেছিল বাঁশবাগানে। যশোরের পল্লীতে জমাজামির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ছেলেরা জোট করে তাদের বাবাকে পিটিয়ে হত্যা কিেছল।
আদর যতেœ বৃদ্ধা তার সন্তানদের মানুষ করেছেন। ছেলেরা বড় হয়ে আলাদা সংসার পেতেছে। কিন্তু মার দায়িত্ব আর কেউ নিতে রাজী হচ্ছে না। এ অবস্থায়ও বৃদ্ধা কারো কাছে তার সন্তানদের নাম বলছেন না এই ভেবে যে যদি তার সন্তানদের কোনো ক্ষতি হয়। মায়ের এ মমত্ববোধ কে বুঝবে। বন্য পশুর মধ্যে আর বৃদ্ধার এ কয় সন্তানের মধ্যে পার্থক্য করা যায় কি? বন্য মা-পশুর বাচ্চাগুলো বড় হয়ে গেলে যে যার মতো এদিক সেদিক চলে যায়। মার ভাগ্যে কি হলো তা আর তারা দেখে না। এটা প্রাকৃতিক বিধান। এ বিধান পশুর জন্য প্রযোজ্য। মানুষের জন্য নয়। কারণ মানুষ আশরাফুল মখলুকাত অর্থাৎ সৃষ্টি সেরা জীব। যারা মানুষের সমাজে বাস করেও পশুর মতো আচরণ করে তাদের এ সমাজে বাস করার কোনো অধিকার থাকা উচিত নয়। বনই তাদের জন্য উপযুক্ত স্থান।
মায়ের দোয়া ছাড়া ইহকাল পরকাল কোনো কালেই সন্তানের কল্যাণের আশা নেই। মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত। ধর্মের এই মর্মবাণী কি তাদের কানে কোনো দিন পৌছায়নি? মাকে আশ্রয়ের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করতে হলো। কিন্তু মার প্রতি যদি সন্তানের সম্মান শ্রদ্ধা না থাকে তাহলে ধরে বেধে কি তা আর পাওয়া যায়?
দিন দিন পারিবারিক বন্ধন যে ভাবে শিথিল হচ্ছে তাতে এক দিন দেখা যাবে প্রবীণদের দেখার বা সেবা-যতেœর কেউ নেই। এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগে প্রবীণদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা উচিত বলে আমরা মনে।