নিজস্ব প্রতিবেদক, মনিরামপুর
যশোরের মনিরামপুরের রাজগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফের পদত্যাগের দাবিতে কলেজ চত্বরে বিক্ষোভ হয়েছে। একইসাথে শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন এলাকাবাসী।
বুধবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কলেজ থেকে বের করে দিয়ে সব কয়টি কক্ষে ও প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ কলেজে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কলেজ তালাবদ্ধ রাখার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
এর আগে এলাকাবাসী অধ্যক্ষকে পদত্যাগের জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় বেধে দিয়েছিলেন। আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে ১৩টি অভিযোগ এনে মঙ্গলবার রাজগঞ্জ বাজারে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধ্যক্ষ পদত্যাগ না করায় কলেজে তালা ঝুলিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছেন কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী।
আন্দোলনকারীদের প্রধান সমন্বয়ক ইকরামুল হোসেন বলেন, আমি রাজগঞ্জ কলেজের সাবেক ছাত্র। অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ একজন দুর্নীতিবাজ। আওয়ামী লীগ করার সুবাদে তিনি কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি বেতন আদায় করে নিজের পকেটে ঢুকাতেন। ক্ষমতা দেখিয়ে দলীয় কোনো অনুষ্ঠান হলে রাজগঞ্জ বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলতেন। বিভিন্ন সময়ে নারীদের গায়ে হাত তুলেছেন। আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।
ইকরামুল হোসেন বলেন, আমরা অধ্যক্ষের পদত্যাগ চাই। আজ কলেজে তালা দিয়েছি। ইউএনও বরাবর তার বিরুদ্ধে লিখিত দিয়েছি। অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কলেজে তালা ঝুলবে। আমাদের আন্দোলন চলবে।
চলতি মাসের ৫ তারিখ শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকে রাজগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষর পদত্যাগের দাবি ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজগঞ্জ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্যের অনুসারী ছিলেন। সেই সুবাদে তিনি এলাকায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। রাজগঞ্জ বাজার কমিটির শীর্ষ পদ বাগিয়ে নিয়ে তিনি নানা অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। নিজের কলেজে ও রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে তিনি নিয়োগ বাণিজ্য চালিয়ে বহু টাকা আত্মসাৎ করেছেন। স্বপন ভট্টাচার্য্যের অনুসারী হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাননি।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ বলেন, ১৯৯৫ সাল থেকে আমি রাজগঞ্জ কলেজে শিক্ষকতা করছি। ১২ বছর ধরে অধ্যক্ষর দায়িত্বে আছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে কলেজে তালা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনা তদন্তে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেনকে দায়িত্ব দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন।
