আব্দুল্লাহ সোহান, মণিরামপুর
টানা ১০ বছর মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবনের পর শরিফুল ইসলাম (২৭) এবার বাড়িতে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জীবিত বাড়ি ফেরা হলো না। ফিরেছে কফিনে শরিফুলের মরদেহ। ৬ মাসের শিশু পুত্র সাকিবুল ইসলামসহ মা-বাবা আর স্ত্রীকে রেখে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান শরিফুল ইসলাম। থাকতেন মালয়েশিয়ার পিনাং শহরে। ওই শহরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি।
শরিফুল ইসলামের বাড়ি মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা গ্রামে । তিন ভাই আর দুই বোনের মধ্যে মেঝ শরিফুল ইসলাম। নিহত হওয়ার ২১ দিন পর শরিফুলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌছালে স্বজনদের গগণবিদারি আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। প্রতিবেশিদের কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
শরিফুলের বাবা আব্দুস সাত্তার বলেন, আমার ছেলে বছর দশেক আগে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান। পিনাং শহরে থাকতো শরিফুল ইসলাম। গত ১৯ নভেবম্বর শহরের মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয় শরিফুল। নানা দেন দরবার করে ২১ দিন পর ছেলের মরদেহ বাড়িতে আনা হয়।
শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শম্পা খাতুন কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র সন্তান সাকিবুল ইসলাম। সাকিবুল ইসলামের বয়স ৬ মাস হলে সংসারের স্বচ্ছলতা আনতে মালয়েশিয়া পাড়ি জমায় স্বামী শরিফুল। এরপর তিনি আর কখনো বাড়ি আসেননি। ছেলে সাকিববুল এখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। এবার স্বামী বাড়ি ফিরবে বলে তাকে একাধিকবার মোবাইলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তার জীবিত বাড়ি ফেরা হলো না। বাড়ি ফিরেছে মরদেহ।
তিনি স্বামীর আত্মার মাগফেরাত কামনায় এবং ছেলের ভবিষ্যতের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এদিকে শরিফুলের মরদেহ বাড়িতে পৌছানোর পর শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।