২৪ নভেম্বর যশোর স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা
যশোরের জনসমাবেশ দেশের
রাজনীতিতে তাৎপর্যময় ভূমিকা
রাখবে : এমপি শেখ হেলাল
সুনীল ঘোষ ।।
আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২৪ নভেম্বর যশোরের জনসমাবেশ বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাৎপর্যময় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন তার চাচাতো ভাই বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন। বৈশি^ক মহামারী করোনা পরবর্তী এই প্রথম যশোরে প্রধানমন্ত্রীর জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ জনসভার জনসমুদ্রের ঢেউ শহর ছাপিয়ে শহরতলীতে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দক্ষিণাঞ্চলের প্রভাবশালী এই নেতা।
গতকাল সোমবার বিকেলে যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বৃহত্তর যশোরের চার জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সভা শেষে যশোর স্টেডিয়ামে জনসভার স্থান চূড়ান্ত করা হয়।
শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি আরও বলেন, বিএনপি ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের সময় দিয়েছে। কিন্তু তার আগে যশোরের জনসমুদ্র দেখে তারা পালানোর পথ খুঁজবে। তিনি প্রয়াত এমপি রওশন আলী এমপি, তবিবর রহমান সর্দার, হাদিউজ্জামান, আলী রেজা রাজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শরীফ আব্দুর রাকিবসহ যশোরের প্রয়াত নেতৃবৃন্দকে স্মরণ করে বলেন, তাদের ত্যাগ-শ্রম, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার কারণে যশোরাঞ্চলে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি গড়ে উঠেছে। এখন পদ্মা সেতু যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলে সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। শেখ হাসিনা বিশ^ নেতার তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং ২৩ সালের নির্বাচনেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করবে। তিনি সরকারের উন্নয়ন চিত্র সাধারণ মানুষের মধ্যে তুলে ধরার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এমপি শাহীন চাকলাদারের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিম বলেন, আমরা করতে চাই কর্মীসভা; হয়ে যায় জনসভা। জনসভার আয়োজন করলে তা রূপ নেয় জনসমুদ্রে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলে গণতন্ত্র হত্যা হয়। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে। লুটপাট, খুন, হত্যাসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন শুরু হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) বিএম মোজ্জাম্মেল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু দেশ স্বাধীনের পর ৭৫’ এর ১৫ আগস্ট জিয়ার নির্দেশে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে বিএনপি। সেই তারা এখন রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার দিবা স্বপ্ন দেখছে। শেখ হাসিনা রাষ্ট্রক্ষমতায় আছেন এবং আগামীতেও থাকবেন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে স্বাধীনতা বিরোধীরা কিছুই করতে পারবে না।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল, বাগেরহাট-২ আসনের এমপি শেখ সারহান নাসের তন্ময় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য।
এর বাইরে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, মাগুরার এমপি বীরেন সিকদার, যশোর সদরের এমপি কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, যশোর পৌর মেয়র হায়দার গনী খান পলাশ, শার্শার এমপি শেখ আফিল উদ্দিন, বাঘারপাড়া-অভয়নগরের এমপি রণজিৎ কুমার রায়, চৌগাছা-ঝিকরগাছার এমপি মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক নাসির উদ্দিন, সংরক্ষিত আসনের এমপি খালেদা খানম, ঝিনাইদহ-২ আসনের এমপি তাহজীব আলম সিদ্দিকী, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার, ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, অভয়নগর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ ফরিদ জাহাঙ্গীর, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ প্রমুখ।
সমাপনী বক্তব্যে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ২৪ নভেম্বর শেখ হাসিনার সমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করার জন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে যশোরাঞ্চলে সব আসনে নৌকার জয়-জয়াকার হবে।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর যশোরের জনসভায় বক্তৃতা করেছিলেন। প্রায় ৫ বছর পরে তিনি যশোরে জনসভায় বক্তব্য দেবেন।