নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শার্শা উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা খায়রুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি খাস খতিয়ানভূক্ত জমি ব্যক্তি মালিকানায় দাখিলা প্রদানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দাখিলা পাওয়ার পর ওই জমি বিক্রিও হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে লক্ষণপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারা খাতুন জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
লিখিত অভিযোগে চেয়ারম্যান আনোয়ারা খাতুন উল্লেখ করেছেন, উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা খায়রুজ্জামান সরকারি সম্পত্তি প্রভাবশালীদেরকে পাইয়ে দেয়ার কথা বলে অর্থের বিনিময়ে ব্যক্তি মালিকায় দিয়ে দিয়েছেন। স্থানীয় হরিণাপোতা মৌজায় সরকারি সম্পত্তি মিস কেস নং ২১/৮/৮৮-৮৯ মোতাবেক সংশোধিত পিও-৯৮/৭২ অনুযায়ী সরকারি খতিয়ানভূক্ত সম্পত্তি।
যাহার এসএ দাগ নং ৪৭৪ ক-তফশিলভূক্ত সম্পত্তি, আরএস খতিয়ান নং ৭৭, আরএস দাগ নং ২১৩, জমির পরিমান ৩০ শতক। আরএস পর্চা হলেও উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে সম্পত্তি এক খতিয়ানভূক্ত না করে ব্যক্তিকে দাখিলা প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কর্মকর্তা খারুজ্জামানের নিকট দাখিলা প্রদান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দাখিলা বাতিল করে দিয়েছি। দাখিলা প্রদানের পর ওই সম্পত্তি বিক্রয়ও হয়। যার দলিল নং ৮৭৫২। রেজিস্ট্রির পরে দাখিলা বাতিল হয় কিভাবে? এর কোন জাবাব দিতে পারেননি খায়রুজ্জামান।
এছাড়া হরিনাপোতা মৌজার আতাল হকের পুত্র ইস্রাফিল, সামছুর রহমানের পুত্র আব্দুল লতিফ ও হযরত আলীর পুত্র সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হানিফের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে সরকারি দখলকৃত জমিতে ভেড়িবাঁধ নির্মাণ করার সুযোগ করে দিয়েছেন খায়রুজ্জামান।
যার এসএ দাগ ৫৯৪, আরএস দাগ ৬৫৯, ৬৬০, ৬৬১, ৬৬৭, ৬৬৮, ৬৬৯ মোট জমি ৩ একর ৬৬ শতক। যার মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। এভাবে প্রতিটি মৌজায় সরকারি সম্পত্তি অর্থের বিনিময়ে প্রভাবশালীদের সরকারি খতিয়ান নাম খারিজ ও দাখিলা প্রদান করছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, লক্ষণপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকতার অভিযোগের বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত করছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।