বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে ৪ জন শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় বখাটেরা। ঘটনার ৮ ঘণ্টা পর পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ শিক্ষকদের উদ্ধার করে। তবে কোনো বখাটেকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আর এ ঘটনা ঘটেছে ৬ জুন উপজেলার পশ্চিম চিংড়াখালী এম হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। উপজেলার পশ্চিম চিংড়াখালী গ্রামের কয়েকজন বখাটে যুবক ৬জুন সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের কাছে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের চাবি চায়। শিক্ষকরা চাবি না দেয়ায় ৯ টার দিকে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে তাড়িয়ে দিয়ে শিক্ষকদেরকে অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে চিহ্নিত ওই বখাটেরা। এক পর্যায়ে দুপুরের পর প্রধান শিক্ষিকা পালিয়ে মোরেলগঞ্জ শিক্ষা অফিসে গিয়ে জানালে শিক্ষা কর্মকর্তারা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকেল ৫ টার দিকে অবরুদ্ধ শিক্ষকদেরকে মুক্ত করেন।
এটি নিসন্দেহে একটি নৈরাজ্যকর অবস্থা। শিশুদের সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বখাটেরা বন্ধ করে দিয়ে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখবে তা কোন মতেই মেনে নেয়া যায় না। তাও দু’এক ঘন্টা নয়, টানা আট ঘন্টা। আমাদের কথা হলো পশ্চিম চিংড়াখালি গ্রামটিতে কি ওই দিন মানুষজন ছিল না? যখন তাদের সন্তানরা অসময়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরে তখন কি কোন অভিভাবকের মনে প্রশ্ন জাগেনি কেন তারা অসময়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরলো। কোন শিশুই কি তার অভিভাবকের সাথে বলেনি বখাটেরা স্কুলে চড়াও হয়ে তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় অভিভাবকদের কেউ না কেউ বিষয়টি শুনেছেন। কিন্তু তারা গা মাখাননি। তাদের বাড়ি-ঘরের পাশে স্কুলে তাদেরই সন্তানদের শিক্ষকরা অবরুদ্ধ হয়ে আছেন আর তারা চুপ থাকলো কি করে। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে নিরাপত্তাহীনতার ভেতর দিয়ে ওই স্কুলে শিক্ষকরা চাকরি করবেন কি করে? এটা নিসন্দেহে সত্যি যে গ্রামের মানুষ এজন্য নৈতিকভাবে অপরাধ করেছে।
প্রকাশ্য দিনের বেলা এভাবে যে সব বখাটেরা এমন কাজ করতে পারে তারা করতে পারে না এমন অপরাধ নেই। কোন রাজনৈতিক দল কিংবা সংগঠন যেন এদেরকে আশ্রয় না দেয়। কারণে এভাবে দুর্বৃত্তরা অপরাধ করার সুযোগ পেলে তারা দেশটাকে চরম নৈরাজ্যের মধ্যে ফেলে দেবে। ওই সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দুর্বৃত্তদের কাউকে না পাওয়ায় আটক করতে পারেনি। বিষয়টাকে হালকাভাবে না নিয়ে তারা যেখানেই গা ঢাকা দিয়ে থাকুক না কেন খুঁজে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এদেরকে কোনভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না।