জাতির অভিভাবক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ উচ্চশিক্ষা যাতে কোনোভাবেই সার্টিফিকে টসর্বস্ব না হয় সেদিকে নজর দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ গুণগত শিক্ষা ছাড়া শিক্ষা মূল্যহীন। এজন্য শুধু পাঠ্যপস্তক অধ্যয়নে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। পাঠ্য বিষয়ের সাথে বহির্জগতের জ্ঞানভান্ডার থেকে জ্ঞান আহরণ করতে হবে। তিনি ২০ মার্চ বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশ ও বিশ্বের ইতিহাস-ঐহিত্য জানতে হলে পাঠ্যবইয়ের বাইরের অনেক বই পড়তে হবে। শিক্ষার্থীরা পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে না পারলে, এ জাতি কখনো কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। পাঠ্য বইয়ের বাইরের অনেক বই পড়ার পাশাপাশি যোগাযোগের দক্ষতাও বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরিতে যেতে হবে এবং বই পড়তে হবে।
অব্যাহতভাবে মোবাইল, কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা কারোর স্বাস্থ্যের জন্যই ভালো নয়। এগুলোও প্রয়োজনে অত্যন্ত সীমিত আকারে ব্যবহার করতে হবে, যেন স্বাস্থ্যের ক্ষতি না হয়। ২৩ মার্চ যবিপ্রবিতে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতির ও যবিপ্রবির বক্তব্য কথা অত্যন্ত বাস্তব সম্মত। বহির্জগতের জ্ঞান আহরণের চিত্র বড়ই হতাশাব্যঞ্জক। জ্ঞান আহরণের সর্বোত্তম জায়গা হচ্ছে পাঠাগার বা গণগ্রন্থাগার। কিন্তু হাল আমলের কোনো শিক্ষার্থী পাঠাগারমুখী নয়। দেশে যে গণগ্রন্থাগারগুলো আছে সেখানে লেখাপড়ার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবটাই আছে। আছে অবকাঠামো, পর্যাপ্ত বই, পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু পাঠক নেই, ফাঁকা পড়ে থাকে।
তথ্য-প্রযুক্তি জ্ঞান বিকাশের অন্তরায় নয়। কিন্তু তা বইয়ের বিকল্প হতে পারে না। জ্ঞান অর্জনের প্রতি মনীষীরা গুরুত্বারোপ করেছেন। সক্রেটিসের মতে শিক্ষা হলো মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের আবিষ্কার। প্লোটো বলেছেন, শরীর ও আত্মার পূর্ণতার জন্য যা প্রয়োজন তার সবই হলো শিক্ষা। যার মাধ্যম হলো বই। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, গ্রন্থাগার অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সেতুবন্ধন স্বরূপ। ফরাসি লেখক আন্দ্রেঁজিদ বলেছেন, আমাদের বিচার বুদ্ধি গড়ে ওঠে পেরিয়ে আসা সময়ের মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে। সেই মূল্যবোধ সৃষ্টিতে দরকার বই। প্রমথ চৌধুূরী বলেছেন, লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চেয়ে কিছু কম নয় এবং স্কুল কলেজের চাইতে বেশি। এখানে মানুষ স্বেচ্ছায় স্বাচ্ছন্দচিত্তে স্বশিক্ষিত হবার সুযোগ পায়। প্রতিটি মানুষ তার স্বীয় শক্তি ও রুচি অনুসারে নিজের মনকে নিজের চেষ্টায় আত্মার রাজ্যে জ্ঞানের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এ জন্য গ্রন্থগারকে জনগণের বিশ্ববিদ্যালয় বলা হয়।
মনীষীদের মূল্যবান উক্তি থেকে সহজেই অনুমান করা যায় মানুষের জীবনে জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তা কতখানি। ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত কল্যাণের জন্য সবার আগে প্রয়োজন জ্ঞান। বই পড়ার মাধ্যমে এই জ্ঞানের পূর্ণতা আসে। সচেতনতা সৃষ্টি হয়। একটি জাতি ওই সময় সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়, যখন তার প্রতিটি মানুষ জ্ঞানী ও সচেতন হয়ে গড়ে ওঠে। আর এ জন্য মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার। রাষ্ট্রপতির আহ্বান অনুযায়ী গুণগত মানসম্মত শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের পাঠাগামুখী হতে হবে।