এসআই ফারদিন: শীতের শুরুতেই যশোরে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে শিশুর নিউমোনিয়া, পেটের ব্যাথা ও ব্রংকাইটিস রোগ। ফলে প্রতিদিন শিশু ও বৃদ্ধসহ অর্ধশতাধিক মানুষ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে যশোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকায় শয্যা না পেয়ে অনেক রোগী হাসপাতালের মেঝেতে রয়েছেন। রোববার হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় অসুস্থ শিশু সন্তানের জন্য শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের মেঝেতে নোংরা পরিবেশে শিশুর চিকিৎসা নিচ্ছে অনেক অভিভাবক।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আবহাওয়াজনিত কারণে বেড়েছে শিশু রোগের প্রকোপ। ভয় না পেয়ে অভিভাবকদের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, নভেম্বরের শুরু থেকেই বাড়তে থাকে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। গত ১৩ দিনে শুধু হাসপাতালের বহিঃবিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় তিন হাজার শিশুরোগী, আর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭শ ৯০ জন।
২৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে শিশুদের জন্য থাকা ২৪ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকছে অন্তত ৬১ শিশু। হাসপাতালের মেঝেও প্রতিটি বেড রোগীদের চাপে পূর্ণ। হাসপাতালের ওয়ার্ডের রোগীদের জন্য নির্ধারিত টয়লেটের সামনের মেঝেতেও আছেন কেউ কেউ। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের উপচে পড়া ভিড় রয়েছে হাসপাতালের নিচতলায় থাকা চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও চিকিৎসকের সিরিয়াল পাচ্ছেন না অনেকে। চিকিৎসা নিতে আসা বিপুল রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
হাসপাতালের সিনিয়র নার্স হালিমা বেগম জানান, আবহাওয়া জনিত কারণে বর্তমানে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। বেশি আসছে জ¦র, ঠা-া রোগী। হাসপাতালে ২৪ টি বেডের পরিবর্তে ভর্তি রয়েছে প্রায় ৭০/৮০ জন। বেডের তুলনায় ২/৩ গুণ বেশি রোগী থাকায় মাত্র তিনজন নার্স সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন। শিশু ওয়ার্ডে সেবীকাদের সংখ্যা বাড়লে সেবার মানও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার বিকেলে আসমা উল হুসনার (৩) জ¦র, ঠা-া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসেন সদরের সতীঘাটার কামালপুরের মাহিনুর বেগম। শিশুর যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন চিকিৎসক। ভর্তি করার পর শয্যা না পেয়ে দুইদিন ধরে হাসপাতালের মেঝেতে শিশুকন্যাটির চিকিৎসা করাচ্ছেন তিনি। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, মানুষ দাঁড়ানোর জায়গা নেই। শয্যা পাব কোথায়? মশার কামড় খেয়ে শিশুসহ আমি নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েছি।
শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোড এলাকার শেখ মুরাদ হোসেন বলেন, গত রাত থেকে ছেলে শেখ সাবা (২) জ¦রে কাহিল হয়ে পড়ে। রোববার ভোরে হাসপাতালে নিয়ে আসি। দুপুরে একজন চিকিৎসক এসে দেখে গেছে। বেড নেই ফ্লরিং করে মেঝেতেই রয়েছি।
যশোর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. ইমদাদুল হক রাজু বলেন, হাসপাতালে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অন্তত তিন গুণেরও বেশি শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। চিকিৎসা দিতে গিয়ে আমাদের খুবই বেগ পেতে হচ্ছে। অভিভাবকদের আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের যেন ঠা-া না লাগে সেদিকে নজর দিতে হবে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, হাসপাতালে অস্বাভাবিকভাবে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকদের চিকিৎসা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি সর্বচ্চ সেবা দেয়ার জন্য। প্রতিদিনই নতুন নতুন শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে। জানালা বন্ধ রেখে শিশুদের ঘুমাতে দিতে হবে এবং মশারি টাঙ্গিয়ে দিতে হবে। ফ্যান চললে অবশ্যই মশারির উপর কাপড় দিয়ে নিতে হবে বলে পরামর্শ দেন তিনি।