সাংবাদিক হয়রানকারী সেই ভুয়া ডাক্তার যশোর সদর উপজেলার ছানিয়ানতলার খন্দকার কবির হোসেনের চিকিৎসার নামে প্রতারণার দায়ে জেল হয়েছে। তার বুকের পাটা কত বড় যে প্রতারণার ব্যবসা ফেঁদে মানুষকে ঠকাচ্ছে আর সে কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরায় সাংবাদিকের নামে মামলা করেছে। তার ভাবখানা এই যে সে-ই ভালো। আর সেজন্য মিথ্যা কথা লেখায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করার সাহস রাখে। প্রতারণারমূলক চিকিৎসা চালু করেছিল ডাক্তার পরিচয়ের এই ভন্ড। কিন্তু বেশি দিন তার প্রতারণার বিষয়টি চেপে রাখতে পারেনি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাতে ধরা পড়েছে। তার চিকিৎসার বৈধতার কোন কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে তিন মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে এক লাখ টাকা। সেই সাথে তার চিকিৎসালয়টি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দৈনিক কল্যাণে বুধবার এ খবরটি প্রকাশ হয়েছে।
জ্ঞান-বিজ্ঞনের উৎকর্ষতার দিনেও যে আজ এক শ্রেণির মানুষ এ সব ভন্ডদের মিষ্টি কথায় বিভ্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য তাদের দ্বারস্থ হয়। গাছ-গাছড়া, লতা-পাতা বেটে সে কি যে তৈরি করে এতদিন মানুষকে খাইয়েছে তা নিজেও বলতে পারে না। ন্যুনতম কোন কাগজপত্র সে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে দেখাতে পারেনি। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো ছানিয়ানতলা কোন অজ পাড়া গাঁ নয়। কিন্তু সেখানে বসে এমন প্রতারণার ফাঁদ পেতে ব্যবসা করাটাও সাহসের ব্যাপার। আর এ অপরাধ করার সাহস আছে বলেই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। কিন্তু প্রবাদ আছে ‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে’। আর তাই তাকে শেষ পর্যন্ত জেলের ভাত খেতে হলো। কবি গুরু লিখেছিলেন, ‘হে বঙ্গ জননী, সাত কোটি সন্তানকে রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ করোনি।’ আসলে জাতি হিসেবে বাঙালি এক হুজুগে জাতি। নতুবা এক রাতে সারা দেশের মানুষ কঞ্চির পানি খায় কি করে? কে হুজুগ তুলে দিল কঞ্চির পানি খেলে রোগ-ব্যাধি সেরে যাবে। আর অমনি এই পানি খেল সবাই। ভাবতেও অবাক লাগে মুখে মুখে সারা দেশে এ কথাটি ছড়িয়ে পড়েছিল। কেউ একবার ভেবেও দেখল না, আসলে কি কথাটা সত্য।
জাতি হিসেবে আমাদেরকে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হলে কুসংস্কারমুক্ত হতে হবে, হতে হবে বাস্তববাদী। তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়নের যুগে সবাইকে প্রযুক্তিকে আকড়ে ধরতে হবে। মনে রাখতে হবে বিজ্ঞান বাদ দিয়ে কেউ এগোতে পারবে না।