নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের কেশবপুরের সুফলাকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম মুনজুর রহমানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রদান করেছেন ইউনিয়নের ৮জন মেম্বার। তারা অনাস্থা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত জানিয়েছেন।
অভিযোগকারীরা হলেন, ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আফসার আলী, ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কালাম পাটোয়ারী, ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অসীম কুমার, ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন, ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিম মোল্যা, ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল মজুমদার, ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজিজুর রহমান এবং ১,২,৩ সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সালমা বেগম।
লিখিত অনাস্থা পত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি কেশবপুরের সুফলাকাটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান এসএম মুনজুর রহমান স্বেচ্ছাচারিতা করে যাচ্ছেন। সরকারি সব কাজের ক্ষেত্রে তিনি একাই সিদ্ধান্ত নেয়। নির্বাচিত মেম্বারদের মতামতের কোন মূল্যায়ন করেন না। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে অনড় থেকে চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে কাজকর্ম দেখাশোনা ও সার্বিক দায়িত্ব দিয়ে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। ইউনিয়নের কোনো লোক কোন বিষয়ে অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বারদের উপর তদন্ত বা দায়িত্ব দেন না। চেয়ারম্যান তার ব্যক্তিগত লোকের উপর দায়িত্ব দেন। চেয়ারম্যান কাছে ওয়ারেশ সনদ, নাগরিক সনদ, চারিত্রিক সনদ নিতে গেলে তাকে পাওয়া যায় না। তিনি ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত কাজে বাইরে থাকায় সাধারণ জনগণের ভোগান্তি পেতে হয়। সরকারিভাবে আসা বিভিন্ন কার্ড জনসংখ্যা হিসাবে প্রতি ওয়ার্ডে ভাগ হলেও মেম্বাররা ঠিকভাবে পাননা। চেয়ারম্যান উপজেলা তাঁতী লীগের সভাপতি। তিনি দলীয় লোকজনের কার্ড দেন। এতে প্রতি ওয়ার্ডে হতদরিদ্র লোকজন বঞ্চিত হন।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, এসব অনিয়মের কারণে চেয়ারম্যান এস এম মুনজুর রহমানের প্রতি মেম্বারদের আস্থা নেই। ফলে সরকারের নির্বাচনী আইনানুযায়ী নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এসব অভিযোগ করে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়। জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে তার দপ্তরে এ অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সুফলাকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিএম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
