কল্যাণ রিপোর্ট : মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে জাতির সূর্যসন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করছে বাংলাদেশ।
ঘড়ির কাঁটায় মঙ্গলবার শুরুর লগ্নেই যশোরের চাঁচড়া শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভে শোকার্ত জনতা জড়ো হয় শ্রদ্ধার ডালি নিয়ে। সকাল থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভে নামে মানুষের ঢল। ফুলেল শ্রদ্ধায়, শপথে শুরু হয় শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ।
এবারও করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উদযাপনে থাকা বাংলাদেশ।
একাত্তরের ডিসেম্বরের মধ্যভাগে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয় যখন অনিবার্য; তখন এদেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি বাহিনী হত্যা করে বাংলাদেশের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবীদের; এর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দেওয়া।
দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালির বিজয় যখন আসন্ন, তখনই ঘটে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম সেই হত্যাকাণ্ড।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পী, লেখক, সাংবাদিকসহ বহু খ্যাতিমান বাঙালিকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে।
নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনেই পাকিস্তানি বাহিনী ওই নিধনযজ্ঞ চালায়; তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতার পর যেন বাংলাদেশ যাতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে- তা নিশ্চিত করা।
শোকাবহ এই দিবসটি পালন উপলক্ষে যশোরে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করে যশোরাবাসী।
সকাল ৮ টায় চাঁচড়ার বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোর সকাল ৯টায় জোটভুক্ত সব সংগঠনের সমন্বয়ে কেশবলাল সড়ক থেকে চাঁচড়া বধ্যভূমিতে হেঁটে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। সকালে প্রেসক্লাব যশোরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রেখে উত্তোলন করে। কালোপতাকাও উত্তোলন করে। কালোব্যাজ ধারণ করে সকাল ১০ টায় চাঁচড়া বধ্যভূমির উদ্দেশে পদযাত্রা ও বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।