নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদরের হামিদপুর বাঁওড় থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ইজারাদার বাঁওড়ের বুকে ড্রেজার মেশিন স্থাপন করে গত ১০-১২ দিন ধরে বালু উত্তোলন করছেন বলে এলাকাবাসী দাবি করেছেন।
সূত্র মতে, হামিদপুর বাঁওড়টি চাঁদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী শিল্পী খাতুন সাড়ে ১৭ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন। সেখানে মাছ চাষের কথা থাকলেও তিনি পাড় বাঁধায় ও খননের নামে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। এ নিয়ে এলাকার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য মতে, ইজারাদার শিল্পী খাতুনের স্বামী চাঁদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাবুল। বাবুল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি স্ত্রী শিল্পীর নামে ৪৩ একরের এই বাঁওড়টি সাড়ে ১৭ লাখ টাকায় লিজ গ্রহণ করেন। সেখানে মাছ চাষের কথা থাকলেও তিনি বালু উত্তোলন করছেন। বাঁওড়ের বুকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে সামান্য দূরে রাখা হচ্ছে। তার বিক্রি কাজে সহযোগিতা করছেন হামিদপুর গ্রামের খায়রুল ইসলাম। এলাকাবাসীর ভাষ্য, খায়রুল ইসলামের মাধ্যমে ট্রাকে করে বালু বিক্রি করা হচ্ছে। এতে এলাকার রাস্তা ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আকরাম হোসেন বলেন, আমার জানা মতে খনন করার অনুমতি আছে বাঁওড় ইজারাদারের। কিন্তু বালু উত্তোলন করছেন কিনা জানা নেই। বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি দেয় না প্রশাসন।
এ বিষয়ে ইজারাদার শিল্পী খাতুন বলেন, বাঁওড়টি ধোয়ানিতে গাদে ভরে গেছে। তাই খনন করা হচ্ছে। গাদের সাথে হয়ত সামান্য বালু উঠতে পারে। কিন্তু বালু উত্তোলন এবং ট্রাকে করে বিক্রির তথ্য সঠিক নয়। তিনি আরো বলেন, ৪৩ একরের বাঁওড় খাতা কলমে ইজারা নেওয়া হলেও আমি বুঝে পেয়েছি মাত্র ৭ একর। তাও মাছ চাষে উপযুক্ত না। এজন্য খনন করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপন বিশ্বাস বলেন, বাঁওড় লিজ নিয়ে বালু উত্তোলন করার সুযোগ নেই। এটা অবৈধ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
