নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের বড়বাজারে প্রকৌশলী বায়েজিদ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী এবং হুকুমদাতা বিএনপির নেতা মুল্লুক চাঁদ ও তার ভাই সঞ্জয় চৌধুরীকে আজও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। হত্যার দেড় মাস হতে চললেও বায়েজিদের মূল খুনিদের গ্রেফতার করতে না পারায় নানান শংকা ঘুরপাক খাচ্ছে নিহতের স্বজনদের মনে।
গত ২৪ মার্চ রাতে যশোর শহরের কাসারি পট্টিতে নগর বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মুল্লুক চাঁদের চালের আড়তে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। নিহত বায়েজিদ খুলনার সোনাডাঙ্গার আল আমিন মহল্লার বাসিন্দা মৃত রোকন উদ্দিন মোল্যার ছেলে। পেশায় তিনি প্রকৌশলী ।
নিহতের স্ত্রী তাকিয়া তুছ সাদিয়া জানান, তার স্বামী একজন প্রকৌশলী। যশোর নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মুল্লুক চাঁদ ও তার ভাই সঞ্জুয় চৌধুরীর ঢাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এমব্লকে একটি বিল্ডিং নির্মাণ কাজ চলছে। তার স্বামী বায়েজিদ হাসান সেখানে ৩০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। তারা সেখানেই বসবাস করতেন। চলতি বছরের ১৫ মার্চ তারা স্বামী-স্ত্রী বাড়িতে আসেন। ২৪ মার্চ দুপুর ১টার দিকে মুল্লুক চাঁদের কর্মচারী শহিদুল ইসলাম, রাজু ও রাজনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪জন বায়েজিদের বাড়িতে যান। সেখান বলা হয়েছে খুলনা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব হোসেন বায়েজিদকে নিয়ে যেতে বলেছে। এরপর তাকে নিয়ে মণিরামপুর হয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে যশোর শহরের কাসারীপট্টির মুল্লুক চাঁদের চালের আড়তে যায়। আড়তে পৌছানো মাত্র মুল্লুক চাঁদ ও তার ভাই সঞ্জয় চৌধুরীর নির্দেশে বায়েজিদের হাত-পা বেঁধে ফেলেন কর্মচারীরা। পরে মুল্লুক চাঁদ, সঞ্জয়, শহিদুল, রাজু, রাজন, শাহ আলম, জসিম, মহব্বত আলী মন্টু মোস্তাফিজুর রহমানসহ আরো কয়েকজনে কুড়ালের আছাড়ি দিয়ে বায়েজিদকে এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকেন। তাদের মারপিটে নিস্তেজ হয়ে পড়লে মুল্লুক চাঁদ নিজের পরিচয় দিয়ে বায়েজিদের মায়ের কাছে মোবাইল করেন। এসময় বায়েজিদের কাছে ৫ লাখ টাকা পাওনা আছে এবং সেই টাকা পরিশোধ করে তাকে ছাড়িয়ে নিতে যেতে বলা হয়। আর টাকা না দিলে তাকে মারপিট অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়। এরপরে মুল্লুক চাঁদের ফোনে বায়েজিদের সাথে কথা বলেন তার মা। এসময় বায়েজিদ বলছে মা আমাকে ওরা মেরে ফেলবে। এরপরে কান্না জড়িত কণ্ঠে মুল্লুক চাঁদের কাছে তার ছেলের প্রাণ ভিক্ষা চেয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। ওইদিন রাত আড়াইটার দিকে খবর পেয়ে থানা পুলিশ বায়েজিদকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় নিহতের মা দিলরুবা বেগম ২৫ মার্চ রাতে ৯ জনের নাম উল্লখ পূর্বক অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মুল্লুক চাঁদ, তার ভাই সঞ্জয় চৌধুরী, চৌধুরী কন্সস্ট্রাকশনের সাবকন্টাক্টর শহিদুল ইসলাম, মুল্লুক চাঁদের চালের আড়তের রাজু, রাজন, শাহ আলম, যশোর শহরের লোন অফিসপাড়ার সাদেক মোল্যার ছেলে জসিম মোল্যা, হাজী আব্দুল করিম রোডের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে মহব্বত আলী মন্টু এবং মণিরামপুরের লাউড়ি গ্রামের নুরুল হকের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে আসামি করা হয়। বিভিন্ন সময় পুলিশ এই মামলার আসামি রাজু, রাজন, জসিম ও মুস্তাফিজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরমধ্যে মুস্তাফিজ এই হত্যাকাণ্ডের দায় এবং মুল্লুক চাঁদ ও তার ভাই সঞ্জয় চৌধুরীর নির্দেশে হত্যা করা হয় বলে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। কিন্তু ঘটনার দেড় মাস পার হলেও পরিকল্পনাকারী ও মূল খুনিদের পুলিশ আজও গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে মামলাটির ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বাদী নিহতের মা দিলরুবা বেগম।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই শরীফ আল মামুন বলেছেন, ঘটনার পর থেকেই এলাকাছাড়া আসামিরা। তবে পলাতক আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া অব্যাহত রয়েছে। তারা ছাড় পাবে না।
