অ্যান্টনি দাস অপু: আজ নববর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে ভিন্ন উৎসবে মেতে উঠছে দেশ। অন্য বছরের মতো এবারও সারা দেশের বই উৎসবের আয়োজনে সামিল হচ্ছে যশোর। কিন্তু এ জেলায় সব বই এখনো এসে পৌছায়নি। চাহিদার প্রায় ৪০ ভাগ বই এখনো আসেনি।
শুক্রবার পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরে মাত্র ৬১ শতাংশ বই এসেছে। মাধ্যমিক স্তরে এসেছে গড়ে ৬৫ শতাংশ। ফলে বছরের প্রথমদিনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। গত বছরও বই উৎসব করা হয়েছিল চাহিদার মাত্র অর্ধেক বই নিয়ে।
যশোর জেলা শিক্ষা অফিস মতে, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা পর্যায়ে জেলায় সম্ভাব্য ৫ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী হিসাব করা হয়েছে। এহিসেবে মাধ্যমিক, দাখিল, এবতেদায়ী, এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনালে বইয়ের চাহিদা ৪১ লাখ ৪৯ হাজার ৯০২ পিস।
চাহিদার বিপরীতে জেলায় বই এসে পৌঁছেছে ২৬ লাখ ৯৭ হাজার পিস। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বইয়ের চাহিদা ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১১০ পিস। বই এসে পৌঁছেছে ৮ লাখ ২৭ হাজার ৭১৬ পিস। বছরের প্রথম দিন থেকেই এসব বিতরণের কথা রয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিসের একটি সূত্রের দাবি, গতবছর প্রায় সব শ্রেণিতে অর্ধেক বই দিয়ে বই উৎসব শুরু হয়েছিলো। প্রায় ফেব্রুয়ারি মাস লেগেছিলো শতভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে।
নতুন কালিকুলাম ও সিলেবাসে বই ছাপাতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় অন্য জেলাগুলোর মতো যশোরেও সব নতুন বই এসে পৌঁছায়নি বলে শিক্ষা অফিসের সূত্রটি জানিয়েছেন। বই প্রাপ্তির বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী এবারও অর্ধেক বই নিয়ে উৎসব হবে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম গোলাম আযম জানান, প্রতিদিনই বই আসছে। এখন পর্যন্ত চাহিদার ৬৫ শতাংশ বই পেয়েছি আমরা। আশা করি দুই-একদিনের মধ্যে সকল বই পেয়ে যাবো। বই দেরি করে আসছে বলে; বই পৌঁছে দিতে বেশি জনবল প্রস্তুত রেখেছি। যাতে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বইগুলো পৌঁছে যায়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, প্রতিদিনই বই আসছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সব বই এসে যাবে।
এদিকে, যশোর ইনস্টিটিউট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে বই বিতরণ করা হবে। এঅনুষ্ঠানে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
অন্যদিকে সকাল ৯টায় যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ (মোমিন গার্লস) বিদ্যালয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান। পরে তিনি যশোর জিলা স্কুলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বই বিতরণ করবেন। এসব অনুষ্ঠানে জেলা শিক্ষা অফিসার একেএম গোলাম আযমসহ অন্যান্যদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
