বৃষ্টিতে খেলা চালিয়ে যাওয়ায় নিগারের ক্ষোভ
ক্রীড়া ডেস্ক: ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাসী শুরুর পরও স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। টানা দুই হারেই তাই শুরু হলো বিশ্বকাপ। তবে বৃষ্টির তোপে ২৭ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ডানেডিনের কন্ডিশন খেলার উপযুক্ত ছিল না, এমন বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা। বৃষ্টির কারণে শুধু বোলারদের বল গ্রিপ করতে সমস্যা হচ্ছিল, সেটি নয়, ফিল্ডাররাও বল ঠিকঠাক দেখতে পারছিলেন না বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াই জানিয়েছেন নিগার। তিনি নিজ খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন।
বৃষ্টিতে সোমবার খেলা শুরু হয়েছিল স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে, নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার ঘণ্টা পর। আগে ব্যাট করা বাংলাদেশের ইনিংস শুরুই হয়েছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে। ফারজানা হক ও শামীমা সুলতানার উদ্বোধনী জুটিতে শুরুটা ভালো হলেও এরপর আর কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। বাংলাদেশের দেওয়া ১৪১ রানের লক্ষ্য ১ উইকেট ও ৪২ বল বাকি থাকতেই পেরিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড, সুজি বেটসের ৬৮ বলে ৭৯ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে।
তবে সংবাদ সম্মেলনে নিগার বলেছেন, দ্বিতীয় ইনিংসে এমন কন্ডিশনে খেলাটা কঠিন ছিল তাঁদের জন্য, ‘বৃষ্টি অনেক বেশি ছিল, কন্ডিশন খেলার মতো ছিল না। বোলাররা বল গ্রিপ করতে পারছিল না, এমনকি ফিল্ডাররাও। এত বেশি বৃষ্টি হয়েছে, বল দেখতেও সমস্যা হচ্ছিল। তবে অবশ্যই বলতে হবে নিউজিল্যান্ড ব্যাটাররা ভালো ব্যাটিং করেছেন।’
সে সময় নিজেদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আমার খেলোয়াড়েরা নিরাপদ থাকলেই কিন্তু আমি বাকি ম্যাচগুলো পারব। লড়াই করব যাদের নিয়ে, তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।’
দুই ইনিংসে একই কন্ডিশনে খেলা হয়েছে বলেও মনে করেন না নিগার, ‘এখন যদি আপনারা বলেন, এটা অজুহাত হতে পারে যে প্রথম ইনিংসেও তো বৃষ্টি হয়েছিল। না, এমনটি নয়। প্রথম ইনিংসে বৃষ্টি এত তীব্র ছিল না। আমরা যখন ফিল্ডিং করেছি, পরিস্থিতি ভিন্ন। আমরা সীমিতসংখ্যক খেলোয়াড় নিয়ে আসি বিশ্বকাপে, আমাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়, এত দূর থেকে এসে। আর এখন এসে ১০ দিনের কোয়ারেন্টিনে রেখে খেলোয়াড় যুক্ত হতে হতে শেষ হয়ে যাবে টুর্নামেন্টই। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিশ্বকাপের পরও আমাদের ম্যাচ আছে, সেখানেও তো আমার খেলোয়াড়দের প্রয়োজন আছে।’
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ যাবে ম্যাচ রেফারির কাছেও, ‘আমরা যখন মাঠে ছিলাম, আম্পায়ারদের কাছে জানতে চেয়েছি, খেলা চালাব কি না। তাঁরা বলেছেন, চালিয়ে যেতে। মাঠে এরপর আর কিছু করার থাকে না। মাঠের বাইরে এটি যতটা কমিয়ে আনা যায়, সেটি করব ম্যাচ রেফারির সঙ্গে কথা বলে। কন্ডিশন আজ কেমন ছিল, পুরো ব্যাপারটা আরও ভালোভাবে কীভাবে করা যায়।’
কন্ডিশনের ব্যাপারটি বাদ দিলে অবশ্য বাংলাদেশকে দুই ম্যাচেই ব্যাটিংয়ে মিডল অর্ডারই ভুগিয়েছে। প্রথম ম্যাচে ৬৯ রানের পর সোমবার (৭ মার্চ) উদ্বোধনী জুটিতে উঠেছে ৫৯ রান। আগের দিন তিনে খেলা ফারজানাকে উঠিয়ে আনা হয়েছিল ওপেনিংয়ে। কিন্তু দুই ম্যাচেই বাংলাদেশ আটকে গেছে আগেভাগেই।