মোঃ হাসানুজ্জামান ঝড়ু
‘কন্ডিশন, প্রেশার নাকি স্বাধীনতা’ কোন বিষয়টা মাথায় রেখে বাংলাদেশ শুরু করবে তাদের সুপার-৮ এ প্রথম ম্যাচ মাইটি অস্ট্রেলিয়ার সাথে। হেড কোচ হাথুরেসিংহের সন্তুষ্টি যে দল সুপার-৮ এ কোয়ালিফাই করেছে, তিনি বিশ্বাস করেন যে দল সেমিফাইনাল খেলার যোগ্যতা রাখে যদি তার দেওয়া টুটকা ক্রিকেটার মনেপ্রাণে ধারণ করে। দারুন ক্রিকেট খেলে আসা বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠা যে তাদের বোনাস এটা আমি অন্তত মনে করি না।
শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ২ উইকেটে জয়ী। নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫ ও নেপালের বিপক্ষে ২৭ রানের জয় ও সাউফ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪ রানের পরাজয় আমাকে আমাকে আত্মবিশ্বাসী হতে বাধ্য করছে।
দারুন ভাবে শেষ করা প্রথম পর্বের বাংলাদেশ মুখোমুখি হতে যাচ্ছে শক্তিশালী অস্টেলিয়ার সঙ্গে। যেখানে সুপার এইট এর ম্যাচগুলো শুরু হয়েছে দারুন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাধ্যমে। সাউথ আফ্রিকা জিতেছে ১৮ রানে, আমেরিকা ২০টা ওভার দারুন উপভোগ্য ব্যাটিং করেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিসের করা ১৮০ রানকে ১৭ ওভার ৩ বলে ইংল্যান্ড তাড়া করে জিতেছে ৮ উইকেট হাতে রেখে।
স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়াম, নর্থ সাউথ, এন্টিগাতে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এক উপভোগ্য একটা ক্রিকেট ম্যাচ হতে যাচ্ছে সুপার এইট চতুর্থ ম্যাচ। গ্রুপ পর্বে ডোমিনেট করা অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়া অবশ্যই চেষ্টা করবে বাংলা দেশকে প্রথমেই স্তব্দ করে দিতে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন আপ যথেষ্ঠ ফর্মে আছে। ট্রেভিস হেড আর ডেভিড ওয়ার্নার শুরুতেই তাসকিন-সাকিদের উপর চড়াও হবে এটা নির্ধারিত। পাওয়ার প্লের সর্বোচ্চ ব্যবহার করার এ্যাবিলিটি তাদের আছে। মিচেল মার্শ দারুন ভাবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে উনার ব্যাটিং মুগ্ধতা দিয়ে। স্টোয়োনিস সবসময় সবসময় আতংকের একটি নাম। ম্যাক্সওয়েল যে কোন বড় ম্যাচের নির্ভরশীল একটা নাম। স্পিন বোলিং আবিলিটির প্রনাম সাপেক্ষে যেকোন দলকে গুড়িয়ে দিতে পারে। জাম্পার বোলিং ইকোনমি বাংলাদেশোর ব্যাটারদের একটু ভোগাতে চেষ্টা করবে আরকি। অ্যাস্টন অ্যাগার যে কোন সময় বোলিংয়ে আনতে পারে অধিনায়ক।
তানজীদ তামিম, লিটন কুপার দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত এবং সাকিব আল হাসান এর জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ প্রয়োগ করবে ক্যারিবিয়ান উইকেটে অস্টেলিয়ার ত্রাস পেস অ্যাটাক, নাথান এলিস, মিচেল স্টার্ক, জস হেজেলটও আর মার্ক স্টোয়োনিস। আর টি-২০ টুর্নামেন্টের বড় একটা লক্ষনীয় বিষয় যে সপ্তম বোলার অপশন যেখানে, ক্যামেরন গ্রীন তো আছেই।
শেষ ম্যাচটা নেপালের সাথে লো স্কোরিং ম্যাচ ছিল, বেশ ভাল ভাবে সফল, বলা চলে বোলার এবং ফিল্ডারদের নিয়ন্ত্রন ছিল পুরো ম্যাচটা জুড়ে।
বাংলাদেশ দলের এই টুনামেন্টের বড় গুরুত্বপূর্ণ পার্ট মিডল অর্ডার। বেশীরভাগ রানই আসছে তাওহীদ হৃদয়, সাকিব আল হাসান আর অভিজ্ঞ ফিনিশার মতই মাহমুদউল্লার থেকে। বেশ কিছু সফল পার্টনারশিপ ম্যাচগুলো জিততে সহজ করে দিয়েছে। অসিদের বিরুতে ম্যাচের ক্রুশাল সময়ে মিডল অর্ডারদের ব্যাট কথা বলবে আশা করছি। সমর্থকদের মত আমিও আশায় থাকলাম টপ অর্ডার ব্যাটারদের সেনসেবল ব্যাটিং এর আশায়। তানজীম হাসান সাকিব অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন। এই বিশ্বকাপে ধারাবাহিকভাবে সফল পেস বোলার বড় একটা ইমপ্যাক্ট ফেলবে এ ম্যাচে। কন্টোল পেস, দারুন লেন্থ মিশ্রিত সুইং বড় একটা শক্তির জায়গা এই উদীয়মান তারকার। ৪ ম্যাচে ৯ উইকেট সংগ্রাহক বোলারের সাথে তাসকীন ও মোস্তাফিজ ভালো কিছু করবে বলে আশা করতে পারি।
স্পিন এর বিরুদ্ধে সবসময় এলোমেলো অস্টেলিয়ার সাথে বড় একটা চমক দেখাতে পারেন রিশাদ হোসেন ও সাকিব আল হাসান। এ জুটির উপর অনেকখানি নির্ভর করবে ইনিংসের ৭ থেকে ১৫ ওভার।
মূলতঃ অসিদের শক্তিশালী ব্যাটিং। আর বাংলাদেশের সফল বোলিং ইউনিট এই দুইয়ে লড়াই হবে সুপার এইট’র চতুর্থ গুরুত্বপূর্ন ম্যাচ।
লেখক : জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার
