নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ ৪ নভেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৮ সালের এদিনে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিএনপির প্রভাবশালী এই নেতা। পুরো দক্ষিণবঙ্গে বিএনপির রাজনীতির পুরোধা ছিলেন অভিজ্ঞ এই রাজনীতিক। ১৯৪৬ সালের ১৬ নভেম্বর যশোর শহরে জন্ম হয় তার। পিতা আব্দুল আজিজ ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। মাতা মোসাম্মৎ নূরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিণী।
দলীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬১ সালে তিনি যশোর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৬৩ সালে যশোর মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয় থেকে আইএ পাস করেন। এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ (অনার্স) এবং ১৯৬৯ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তরিকুল ইসলাম ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসাবে যশোর এমএম কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬৩ সালে সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৬৬ সালে রাজনৈতিক মামলায় তরিকুল ইসলামকে বেশ কিছুদিন কারাবরণ করতে হয়। ১৯৬৮ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের জন্যে তাকে রাজবন্দি হিসাবে ৯ মাস যশোর ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রাখা হয়।
বিএনপির দফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৯৭০ সালে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন তরিকুল। মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী আহূত ফারাক্কা লং মার্চে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৩ সালে তরিকুল ইসলাম যশোর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে তিনি তিন মাস কারাভোগ করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮৬ সালে তাকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এ সময়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৯০’র গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তরিকুল ইসলাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯১ সাল থেকে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বপালনকালীন তিনি পর্যায়ক্রমে সমাজকল্যাণ ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, খাদ্য, তথ্য, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন ষ্পষ্টভাষী ও জনদরদী রাজনীতিবিদ। আমৃত্যু তিনি বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। মৃত্যুর পর ঢাকায় তিন দফা এবং যশোরে স্মরণকালের বৃহত্তম নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় কারবালা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মরহুমের বড় ছেলে শান্তনু ইসলাম সুমিত জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন অনুষ্ঠান করা সম্ভব হচ্ছেনা। যেকারণে গতকাল শুক্রবার পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাদ্রাসায় এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আজ শনিবার তার কবর জিয়ারত করা হবে পরিবারের পক্ষ থেকে।
