নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ১৯ বছর আদালতে মামলা চালানোর পর নিজের পক্ষে রায় পেলেও জমিতে ভোগ দখলে যেতে পারছেন না কাশেম আলী মোল্লা। জানা যায়, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের বুুধপুর গ্রামের কাশেম আলী মোল্লার ছেলে দাউদ হোসেনের সাথে একই গ্রামের জলিল মোল্যার কন্যা মনজুরা পারভিনের সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়।
বিয়ের কিছু দিন পর মঞ্জুরা পারভিন শ^শুর কাশেম মোল্যাকে চাপ দিতে থাকেন তার নামে জমি লিখে দেয়ার জন্য। একপর্যায়ে মঞ্জুরা পারভিন কৌশলে কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় ২০০২ সালেল ১২ আগস্ট ৩৭ শতক জমি দলিল করে নেয়। যার দলিল নং ৩৮৮৩/০২।
এলাকাবাসী জানান, কাশেম আলী মোল্যার ছেলে দাউদ হোসেন বিদেশ যাওয়ার পর মনজুরা পারভিন আদালতের মাধ্যমে স্বামী দাউদ হোসেনকে তালাক দেন। দাউদ হোসেনকে তালাকের পর মনজুরা পারভিন বিয়ে করেন পাশের দরাজহাট গ্রামের ভোলা মোল্যার পুত্র মাসুমকে।
এই ঘটনায় কাসেম আলী মোল্লা বাঘারপাড়া সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল বাতিলের মামলা করেন। মামলায় নালিশি জমির মধ্যে বুধপুর মৌজার ২২৪ দাগের ২৫ শতক, ১৭৫ দাগের ৬ শতক, ১৭৬ দাগের ২ শতক, ১৭৮ দাগের ২ শতক, ১৮৪ দাগের ২ শতক মোট ৩৭ শতক।
দীর্ঘ ১৯ বছর আদালতে মামলা চালার পর চলতি বছরের ৩১ আগস্ট বাঘারপাড়া সহকারি জজ আদালত মন্জুরা পারভীনের দলিলটি বাতিলের আদেশ প্রদান করেন। যার স্মারক নং ১৬২। বাঘারপাড়া সহকারী জজ আদালত যশোর জেলা সাব রেজিস্টার আদালতে দলিল বাতিলের আদেশ প্রদান করেন। যার স্মারক নং ৮১০/২৬/১০/২২।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মনজুরা পারভীনের বর্তমান স্বামী এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। মাসুম তার লোকজন নিয়ে জমিগুলো জবর দখল করে এবং লক্ষ লক্ষ টাকার গাছ কেটে সবাড় করে দেয়। এছাড়াও মাসুম বিভিন্ন দালাল মারফতে ৩৭ শতক জমি বিক্রয় করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মাসুমের ভয়ে কাশেম মোল্যার পরিবার জমিতে ভোগ দখলে যেতে পারছেন না। মাসুম দরাজহাট ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের আপন চাচাতো ভাই। আদালতের রায় অমান্য করে মন্জুরা পারভিন জমি জবর দখলে রাখায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।