নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর সদর উপজেলার আমদাবাদ গ্রামের আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা লিমন রহমান রাজশাহী মেডিকেলে চান্স পেয়েছেন। লিমন পঙ্গু চাতাল শ্রমিক সালাম রহমানের ছেলে। তার মা ফাতেমা বেগম গৃহপরিচারিকা।
এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন এখন অনিশ্চিত। পঙ্গু বাবা আর গৃহপরিচারিকা মায়ের পক্ষে একমাত্র ছেলেটির ডাক্তারি কোর্সে ভর্তি করে পড়ানোর খরচ চালানো অসম্ভব।
একমাত্র ছেলেকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন ছিলো মায়ের। মায়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর অদম্য মেধাবী ছাত্র লিমন রহমান। পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়ে শুরু। জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ+ পাওয়ার পর এবার মেডিকেলে চান্স পেয়েছেন তিনি। দরিদ্র, ভূমিহীন হয়েও স্বপ্নের পথে অটল ছিলেন লিমন। আমদাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যশোর সরকারি এমএম কলেজে কৃতিত্ব দেখানোর পর এবার রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন মেধাবী লিমন।
অশ্রুসিক্ত নয়নে লিমন রহমানের বাবা সালাম রহমান বলেন, আমার ছেলে ডাক্তারি পড়তি পারবে জীবনে কখনো ভাবতে পারিনি। আমাদের বংশেরও কেউ কোনো দিন এত লেখাপড়া করতে পারেনি। আপনারা দোয়া করবেন আমার ছেলে যেন ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পায়।
লিমনের মা ফাতেমা বেগম বলেন, অন্যের বাড়িতে কাজ করে ছেলেকে লেখাপড়া করিয়েছি। ছেলের মুখে কোনো দিন ভালো খাবার তুলে দিতে পারিনি। শত কষ্টের মাঝেও পড়াশোনা করিয়েছি। এখন তাকে কিভাবে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করাবো?
লিমন রহমান বলেন, আমি দরিদ্র ঘরের সন্তান। আমি বহুদিন না খেয়ে স্কুল, কলেজে পড়েছি। আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কি করে পূরণ হবে জানিনা।
স্থানীয় চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। স্কুল, কলেজের স্যারদের সহযোগিতায় আমি পড়াশোনা করে মেডিকেলে চান্স পেয়েছি। আমি চিকিৎসক হয়ে সমাজের গরিব-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।
দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, লিমন রহমান মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় আমরা খুশি। চাতালে কাজ করে লিমনকে তার বাবা পড়াশোনা করিয়েছেন। এখন ছেলেটির ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
কেউ লিমন রহমানকে সহযোগিতা করতে চাইলে তার মোবাইল নম্বরে (০১৯৮৬-১৫৬৫৭৯) যোগাযোগ করতে পারেন।