সাজেদ রহমান: যশোর ইপিআর সেক্টরের অধীন ছিল চুয়াডাঙ্গা উইং। কমান্ডার ছিলেন মেজর এম এ ওসমান চৌধুরী। তিনি দাপ্তরিক কাজে কুষ্টিয়া ছিলেন ২৫ মার্চ। পরদিন সকালে ঢাকার ঘটনা জানতে পেরে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা আসেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে তাঁর নেতৃত্বে ২৬ মার্চ চুয়াডাঙ্গা উইং-এর সমস্ত বাঙালি ইপিআর সদস্য বিদ্রোহ করেন। প্রতিরোধ যুদ্ধের জন্য মেজর ওসমানকে প্রধান করে ‘দক্ষিণ-পশ্চিম কমান্ড’ গঠিত হয়।
মেজর ওসমান ওই দিনই যশোর সেক্টর হেড কোয়ার্টারের দুই বাঙালি অফিসার ক্যাপ্টেন আওলাদ ও ক্যাপ্টেন হাসমত উল্লাহকে বিদ্রোহে যোগ দিতে বলেন। কিন্তু তাঁরা মেজর ওসমানের সঙ্গে কথা বলতে রাজি পর্যন্ত হননি। তাঁরা রাজি না হলেও বাঙালি ইপিআর সদস্যরা যে কোন হামলা প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। মেজর ওসমানের বিদ্রোহ ও তড়িত ভূমিকা যশোরসহ গোটা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিরোধ যুদ্ধে নুতন মাত্রা যুক্ত করে। তাঁর সাথে তাঁর ইপিআর উইং-এর বাঙালি অফিসার ক্যাপ্টেন আযম চৌধুরীও বিদ্রোহে যোগ দেন। তিনি অভিযান পরিচালনা করে ৩১ মার্চ ২৭ বালুচের শক্ত ঘাঁটি কুষ্টিয়া শহরকে মুক্ত করেন। এতে কয়েকজন অফিসারসহ হানাদার বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সৈনিক হতাহত হন। প্রচুর অস্ত্র ও গুলি দখলে আসে। একই সময় মেহেরপুরের এসডিও তৌফিক-ই-এলাহী, মাগুরার এসডিও ওয়ালিউল ইসলাম, ঝিনাইদহের মহকুমা পুলিশ অফিসার মাহবুব উদ্দিন বিদ্রোহে যোগ দেন।