নিজস্ব প্রতিবেদক
এইচআইভি রোগীদের চিকিৎসায় যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এন্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে। এর ফলে এইচআইভি রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর খুলনায় ছুটতে হবে না। যশোরেই তাদের চিকিৎসাসেবা দেয়া দেয়া হবে। রোববার সকালে হাসপাতালের নিচতলায় এআরটি সেন্টার উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) রাশিদা সুলতানা। পরে হাসপাতালের সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত মহাপরিচালক রাশিদা সুলতানা বলেন, খুলনা ডিভিশনের মধ্যে সব থেকে ভালো সেবা এই যশোর হাসপাতালে হয়। মেডিকেল সার্ভিসটা একটি টিম ওয়ার্ক। প্রত্যেকেরই এর পিছনে অবদান আছে। আপনারা এখানে যারা আছেন এর মধ্যে থেকে অনেকে গ্রেট ওয়ান গ্রেট টু অফিসার হবেন তখন এই কাজগুলোকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবেন। দুই একজনের কারণে আমাদের চিকিৎসা সেবায় নেগেটিভ কথা আসে।
তিনি আরো বলেন, এইচআইভি প্রতিরোধে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। আগে কোনো রোগীর এইচআইভি দেখা দিলে এই সমাজ থেকে তাকে আলাদা করে রাখা হতো। এখন পাশাপাশি বসে, এক বিছানায় থেকে ও এক প্লেটে খেতেও দেখা যায়। এটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র জনসচেতনতার কারণে। সপ্তাহ খানেক আগে এইচআইভি আক্রান্ত এক রোগী যশোর জেনারেল হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিয়েছেন। যা ছিলো খুবই চ্যালেঞ্জের। এরপরও সম্ভব হয়েছে। জেলা শহরে এটা প্রথম। ডাক্তার নিলুফা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে সিজার করানো হয়েছে। আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিলো যশোর জেনারেল হাসপাতালে এমন সফলতা আসুক। সেটাও বাস্তবায়ন হলো।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকা স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. সামিউল ইসলাম, যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. এএইচএম আহসান হাবীব, খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. মনজুর মোরশেদ, ডা. জসিম উদ্দিন, স্বাস্থ্য বিভাগের লাইন ডিরেক্টর ডা. মাহফুজুর রহমান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন যশোর জেলার সম্পাদক এম এ বাশার, যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘ক’ সার্কেল জুয়েল ইমরান, হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. গৌতম কুমার আচার্য্য, স্বাচিপ যশোর শাখার সদস্য সচিব গোলাম মোর্তজা, হাসপাতালে আরএমও (আবাসিক মেডিকেল অফিসার) পার্থ প্রতিম চক্রবর্তী প্রমুখ।
